নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘন কুয়াশায় পথ হারান ২৯ জেলে-মাঝি। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদেরকে মাছ ধরার ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে বাংলাদেশ জলসীমায় অবস্থানকালীন অবস্থায় ট্রলারটি আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ট্রলারের মালিকপক্ষ। আটক হওয়া ট্রলারটির নাম ‘আমানা গণি’ (ইঞ্জিন নং ১২২০ কে ০০৮৩৭৭ / বিএসটি-২৭৮)। ট্রলারটি চট্টগ্রাম নগরের ফিশারীঘাটের নিবন্ধনভুক্ত।
নগরের ফিশারীঘাটের এই ট্রলারের মালিক সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, মহেশখালীর ধলঘাট থেকে গত ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টায় ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে দুইজন মাঝি ও চালকসহ ২৯ জন ছিলেন। ট্রলারের মাঝিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটকের কথা জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরে জানিয়েছি।
তবে কী কারণে ট্রলার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা কেন তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি মালিকপক্ষ।ভারতে আটক করে নিয়ে যাওয়াদের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, তার ভাই আবু বক্কর, চালক ফেরদৌস, সায়েদ আলী, বখতিয়ার আলম, শহিদুল্লাহ, আবু ছৈয়দ নূরী, সাইফুল ইসলাম, তাহসীন, সাহাব উদ্দিন, তারেকুল ইসলাম, মিন্নাতু, মোহাম্মদ তারেক, ফুতু আলম, সাজ্জাদ, নেছার আহমদ,সালমান, জসিম উদ্দিন, কালু মিয়া, মিজান, আরাফাত, হারুন, মিঠু, হাসান, পারভেজ ও তৈহিদের নাম জানা গেছে। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালীতে।
ভারতে খবর নিয়ে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় উপক‚ল রক্ষী বাহিনী তাদের আটক করে। পরে রবিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেওয়া হয়। দুপুরে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নেছার আহমদের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সর্বশেষ স্বামীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন তারা ঘন কুয়াশায় পড়ে পথ ভুলে ট্রলার নিয়ে অজানা গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন। ভাগ্যে কি ঘটে জানেন না। এরপর রাত ৯ টায় ফোন দিলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।
মিঠুর স্ত্রী ডলি আকতার বলেন, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ খুব সহসা তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন।
চট্টগ্রামের সমুদ্র মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুস ছাত্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।










