টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ চলাচল শুরু

1

পূর্বদেশ ডেস্ক

মিয়ানমারের সংঘাত ও সাগর উত্তাল থাকার কারণে টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর বিকল্প নৌ-পথ ব্যবহার করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে ৯টি নৌযান আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল রোববার সকালে এসব নৌযান আসা-যাওয়া করে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী। এর মধ্যে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে গেছে তিনটি ট্রলার। আর সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপে এসেছে তিনটি ট্রলার ও তিনটি স্পিডবোট।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেন্টমার্টিন জেটি থেকে তিনটি সার্ভিস ট্রলার দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এসবি সুমাইয়া, এসবি আল্লাহদান, এসবি আল-নোমান নামের ট্রলার তিনটি দুপুর ১২টার দিকে শাহপরীর দ্বীপে এসে পৌঁছে। খবর বিইডনিউজের।
তিনি আরও জানান, বেলা ১১টায় টেকনাফ থেকে এসবি আবরার হাফিজ, এসবি ওসমান গণি, এসবি রাফিয়া নামের তিনটি ট্রলারে শতাধিক যাত্রী, দুই শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার, চাল, ডালসহ কিছু খাদ্যপণ্য নিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা করে। যেগুলো দুপুরে ২টার পরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটিতে পৌঁছে।
টেকনাফে অবস্থানরত স্পিডবোট সমবায় সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, সকালে তিনটি স্পিডবোট ২৫ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছেছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকল্প পথে দু’বার সেন্টমার্টিনে আসা-যাওয়া করে ট্রলার। পরবর্তীতে সাগর উত্তাল থাকার কারণে বিকল্প পথও বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে রোববার কিছু নৌ যান চলাচল শুরু করেছে।
চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, নাফ নদীতে নাব্য সংকটে আগে নৌযানগুলো কিছুটা পথে মিয়ানমারের জলসীমা ব্যবহার করে চলাচল করত। কিন্তু মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে এখন সাগরে জোয়ার আসলে বাংলাদেশের অভ্যন্তর হয়েই নৌযানগুলো চলাচল করছে। একইসঙ্গে প্রতিটি নৌযানে উঁচু করে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ জানান, জুন-জুলাই মাসে সাগর বেশি উত্তাল থাকে। এ সময়ে সাগরে যাওয়া নিষেধ আছে। তবে আজ (রোববার) সাগর একটু ঠান্ডা মনে হচ্ছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু আটকে পড়া লোকজনসহ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে তিনটি সার্ভিস ট্রলার ও সেন্ট মার্টিন থেকে তিনটি ট্রলার ও তিনটি স্পিডবোট ছেড়ে গেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে আমরা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সংকটের অবসান না হওয়া পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের বিকল্প নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল করতে বলা হয়েছে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের জেরে গত ১ জুন বিকালে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হওয়া পণ্যসহ ১০ যাত্রীর এক ট্রলারকে লক্ষ্য করে নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সেন্ট মার্টিনের স্থগিত হওয়া একটি কেন্দ্রে ৫ জুন টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদের ফলাফল নির্ধারণের জন্য ভোট গ্রহণ হয়। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরার পথে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ট্রলারকে লক্ষ্য করে একই পয়েন্টে ফের গুলি করা হয়।
৮ জুন আরও এক ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয় একই পয়েন্টে। সর্বশেষ ১১ জুন একটি স্পিডবোটকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ হয়।
প্রতিটি গুলিবর্ষণের ঘটনাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলসীমায় ঘটেছে। এসব ঘটনায় হতাহত না হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দ্বীপে খাদ্য সংকট ও জরুরি আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।