ঝিমিয়ে পড়েছে নগর যুবদলের কার্যক্রম

44

জাতীয়তাবাদী যুবদল, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিজেদের সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম তো নেই, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও ভালোভাবে পালন করতে পারছে না সংগঠনটি। এতে সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে রয়েছে হতাশা, আবার নতুন কমিটির শীর্ষ নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতারাও।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, যুবদলের সভাপতি-সম্পাদক সাংগঠনিক বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন না, নিজেরা নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে দলীয় কার্যক্রমে তেমন সরব উপস্থিতি নেই মহানগর যুবদলের নেতা-কর্মীদের। তবে যুবদল নেতাদের দাবি, মামলার কারণে কিছু নেতাকর্মী দৌড়ের উপর থাকলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সবাই সক্রিয় আছেন।
সূত্রে জানা গেছে, মূল সংগঠন বিএনপির আধিপত্যের বলয়ে থাকে যুবদল। বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বিস্তার ও তা বজায় রাখতে যুবদলের নেতাদের ব্যবহার করা হয়। যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সব সময় নগর বিএনপির নেতাদের ঘরানার লোক হয়ে থাকে। এ কারণে সব সময় বিএনপির গ্রæপিংয়ের বলি হয় যুবদলকে। তবে বর্তমান নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ নগর বিএনপির গ্রুপিংয়ের রাজনীতি থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে রেখেছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলালের সমর্থক হিসাবে পরিচিত ছিলেন দীপ্তি ও শাহেদ। তবে সম্প্রতি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের বøকের সাথে সখ্য গড়ে উঠে দীপ্তির। অন্যদিকে শাহেদ নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে বলে প্রচার আছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই মেরুতে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা যায়নি।
নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিতে ছিলাম। রাজনীতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কমিটি হওয়ার পর থেকেই আমরা কার্যক্রমে সক্রিয় আছি। ২৩ বছর পর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। গণতান্ত্রিক একটা দলে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী প্রত্যেকটা কর্মসূচিতে আমরা সক্রিয় আছি।
জানা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং তৃণমূলের কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আছে যুবদলের নেতাদের উপর। এছাড়া তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিতে বলা হয় যুবদলকে। প্রত্যেকটা কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কথাও বলা হয়।
তবে কেন্দ্রের সাথে নগর যুবদলের সমন্বয় নেই। একই সাথে সমন্বয় নেই নগর বিএনপির সাথেও। যুবদলের নেতৃত্ব নিয়ে নগর বিএনপির নেতাদের মধ্যেই রয়েছে দ্বিধা। এতে মতবিরোধ বেড়েই চলেছে। এ কারণে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় হচ্ছে না যুবদল। যুবদলের কয়েকজন নেতা কর্মসূচিতে লোক দেখানো অংশ নিলেও সমর্থন জোরালো নয়।
গত রমজানে ইফতার মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির অন্য অঙ্গসংগঠন সক্রিয় থাকলেও যুবদলের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। নিজেদের কোনো বড় কার্যক্রম যেমন ছিলো না, তেমনি সক্রিয় ছিলো না মূল সংগঠনের কর্মসূচিতেও।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যুবদলের সাথে আমাদের সমন্বয় আছে। তাদের প্রোগ্রাম তারা করে, অনেক সময় আমরা সময়ও দিতে পারি না। আমাদের প্রোগ্রাম হলে যুবদলের সবাই আসে। অনেক সময় মামলা বা ওয়ারেন্ট থাকার কারণে হয়তো কেউ কেউ উপস্থিত থাকতে পারে না। তবে কোনো দূরত্ব নেই।
নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের পরে প্রত্যেক কর্মসূচিতে আমরা সক্রিয় আছি। রমজান মাসের ইফতার মাহফিল সেটা রাজনীতির অংশ নয়। আমরা এখন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে ব্যস্ত। লোক দেখানো ফেসবুক কর্মসূচিতে আমরা নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুন নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুবদলের ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় যুবদল। এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নতুন কমিটি গঠনের শুরুতেই অসন্তুষ্টি দেখা দেয়। আংশিক কমিটির বিরুদ্ধে পদবঞ্চিতরা রাস্তায় নামেন। কিন্তু সংসদ নির্বাচন চলে আসাতে আন্দোলন জমাতে পারেনি পদবঞ্চিতরা। অক্টোবরে এসে ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ঘোষিত কমিটি ‘বিতর্কে’ রূপ নেয়। দেশে না থেকেও কমিটিতে স্থান পাওয়া এবং কমিটি ঘোষণার দিনই এক সদস্য নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করলে আরও বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়।
বর্তমান কমিটি হওয়ার আগে ২০১১ সালের নভেম্বরে কাজী বেলালকে সভাপতি এবং মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু নগর বিএনপির নেতাদের বিরোধিতায় সেই কমিটি ঘোষণার রাতেই স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও বাড়েনি কমিটির আকার। তারও ১৭ বছর আগে নগর বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলালকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় যুবদল। তখন যুবদলের রমরমা অবস্থা থাকলেও ধীরে ধীরে সেটা মলিন হয়েছে।