জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ‘অনেক অস্পষ্টতা’ রয়েছে

2

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে ‘অনেক অস্পষ্টতা’ খুঁজে পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি হওয়ার একদিন পর গতকাল শুক্রবার বিকালে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে অনেকগুলো বিষয়ে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছি। এর ফলে জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে’।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই আদেশ জারি করেন, সেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই একসঙ্গে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
সনদ বাস্তবায়ন আদেশে একই সঙ্গে গণভোটে কী প্রশ্ন থাকছে তাও তুলে ধরা হয়। একটি প্রশ্নে চারটি দফা রাখা হয়েছে। এই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
এই আদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দলীয় কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন ডাকে এনসিপি। খবর বিডিনিউজের
আদেশে বিভিন্ন বিষয়ে ‘অস্পষ্টতা’ থাকার ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনগুলো তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। যেমন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দুদক এখনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি পাস করানো না হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে তা আদেশে উল্লেখ করা হয়নি’।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ‘অস্পষ্টতাগুলো’ অতি দ্রুত স্পষ্ট করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান আখতার। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার আইনি ভিত্তি দিলেও শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিজমের যে অংশ’ তার (রাষ্ট্রপতি) হাত দিয়ে জুলাই সনদকে ‘অপবিত্র’ করা হয়েছে।
আইন উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তৈরি করেছেন তার মাথায় যদি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের কথা থাকতো, তাহলে তিনি এভাবে আদেশটি করতেন না। তার মাথায় ছিল বিএনপির স্বার্থ। ফলে এটি একটি জনবিরোধী আদেশ হয়েছে। উনি আমাদের আইন উপদেষ্টা, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত কীভাবে গণঅভ্যুত্থানকে মুজিবীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই প্রচেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছেন’।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যখন আমরা দেখব, এই জুলাই সনদের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী প্রক্রিয়া থেকে বের হওয়ার স্পষ্ট পথ নির্দেশনা এসেছে, তখনই আমরা এতে স্বাক্ষর করব। সরকারকে আমরা দুটো কথা বলব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অস্পষ্টতা দূর করুন। ৭২ এর সংবিধানের দিকে না হেঁটে জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী সংস্কারের পথে হাঁটুন’।
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা আগেই দিয়েছে। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশন। এখন একই দিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত ঠিক থাকলে দুটো ভোট একই দিনে নেওয়ার প্রস্তুতি সারতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন আবেদন বিতরণ করছে এনসিপি। প্রথম ধাপে ‘ হাজার ১১টি মনোনয়ন আবেদন বিতরণ করার কথা বলেছেন নাসীরুদ্দীন।
১৩ নভেম্বর মনোনয়ন আবেদন বিতরণের শেষ তারিখ থাকলেও সময় আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২০ নভেম্বর করা হয়েছে।