জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ মুক্তিতে কুইক রেসপন্স টিম উদ্যোগ ভালো, তদারকি প্রয়োজন

1

সকালের সূর্যই বলে দেয়, দিনটি কেমন যাবে! ইংরেজির এ প্রভাতটির প্রতিফলন সবক্ষেত্রে দেখা না গেলেও অনেক ক্ষেত্রে এর সত্যতা মিলে। আমেরিকার নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রেসিডেন্টের রার্নিংমেট হয়ে নির্বাচনে বিজয় এবং শাসনে নিঃস্বার্থ সহযোগি হিসেবে কাজ করেন। উভয়ের মানস ও হৃদ্যতায় দেশ পরিচালিত হয় সঠিক পথে। দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ এ চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরস্পর সহযোগি হিসেবে কাজ করতে পারলে প্রাচ্যের রানী হয়ে উঠত একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরী- এজন্য প্রয়োজন ছিল সম মাসনিকতার দুজন কান্ডারীর। এ নিয়ে নগরবাসীর কম আক্ষেপ ছিল না দীর্ঘদিন। তবে এবার সম্ভবত নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। নগর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধ মো. রেজাউল করিম সম্ভবত তাঁর প্রত্যাশা পূরণের একজন ভালো মনের কর্মদ্যোম রার্নিংমেট পেয়ে গেছেন। তিনিই হলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃৃপক্ষ (চউক) এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধ মোহাম্মদ ইউনুছ। শুরু থেকেই এ মানুষটি চসিকের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে নগরীরর উন্নয়নে অবদান রাখার কথা ঘোষণা করেছেন। সোমবার চসিকের আহবানে টাইগার পাসস্থ বাটালী হিলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানের অভিন্ন বক্তব্য নগরবাসীকে আবারও আশাবাদী করে তুলেছে। সভায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় চসিক মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী কুইক রেসপন্স টিম গঠনের প্রস্তাব করলে সিডিএর চেয়ারম্যান তাতে সম্মতি জানিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন। সভায় বলা হয়, কোথাও অসঙ্গতি হলে সাথে সাথে সমাধান সমন্বয় সভায় খাল থেকে মাটি উত্তোলনে জোর মেয়রের একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা সিডিএ চেয়ারম্যানের আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থার সমন্বয়ে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হবে। টিমের সদস্যদের ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা থাকবে। কোথাও কোনো অসঙ্গতি হলে সাথে সাথে সমাধানে কাজ করবে এই তারা। সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের কাজ শেষে বুঝিয়ে দিলে তা রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ¯øুইচ গেইট অপারেশনেও চসিকের কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। সভায় সিটি মেয়র জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমাতে খাল থেকে মাটি উত্তোলন, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং পাহাড়ের মাটি আসে এমন জয়গায় সিল্ট ট্র্যাপ নির্মাণ এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বরোপ করেন। পলিথিনসহ অপচনশীল বর্জ্য আটকাতে তিনি নগরের কয়েকটি খালে নেট দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
এসময় মেয়র বলেছেন, আরো দুই মাস সময় আছে। এই মৌসুমে কীভাবে জলাবদ্ধতা থেকে জনগণকে স্বস্তি দিতে পারি সে পরিকল্পনা করতে হবে। এক্ষেত্রে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্পের র্পূর্ত কাজ পরিচালনাকারী সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ করবে। এ সংস্থাগুলো নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে। তড়িৎ সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা থাকবে তাদের। কোথাও কোনো অসঙ্গতি হলে সাথে সাথে কেউ কারো দিকে যেন তাকিয়ে থাকতে না হয়। এই টিমের সুপ্রিম পাওয়ার থাকবে। এই টিম সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করবে।
মেয়র বলেন, পানি উঠবেই, এটা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পৃথিবীর কোন জায়গায় পানি উঠে না। দুবাই শহরে পানি উঠে, অথচ সেখানে কেউ কোনোদিন কল্পনা করেনি। নিউইয়র্কেও পানি উঠে। কিন্তু পানি যেন দ্রæত নেমে যায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবে না পানি উঠবে না। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া বিভিন্ন কারণ আছে। কিন্তু পানি যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হয়ে যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে আমাদের। সে ব্যবস্থার জন্য খালের মাটি উত্তোলন করতে হবে। খালের উপরের দিকের ময়লা পরিষ্কার করে দিলে হবে না। খাল গভীর করতে হবে। স্পেসিফিকেশনে খাল কতটুকু গভীর করতে হবে আমি জানি না। কিন্তু খাল থেকে মাটি উত্তোলন করতে পারলে জনগণ দুর্ভোগ থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাবে।
তিনি নগরীর নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে চসিকের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করছি, আর সেখানে পাহাড় থেকে মাটি এসে পড়ছে। তাই পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। এজন্য সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে। এছাড়া জলাবদ্ধতা প্রকল্পে সিল্ট ট্রাপ এর কথা আছে। যেখান থেকে পাহাড়ের মাটি নামে সেখানে সিল্ট ট্র্যাপ করতে হবে। এত মাটিগুলো সামনের দিকে এগুতে পারবে না। সিল্ট ট্র্যাপ ভরাট হয়ে গেলে পরিষ্কার করা যাবে। সিল্ট ট্র্যাপ করতে না পারলে যত কথাই বলি না কেন এ শহরের জলাবদ্ধতা থেকে মানুষকে কতটুকু মুক্তি দিতে পারব এ ব্যাপারে সন্দিহান। আমরা আশাবাদী দুই সংস্থা আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে নগরীর উন্নয়নে কোন বাঁধা থাকবেনা। তবে এসব ভালো উদ্যোগে তদারকি প্রয়োজন।