জনদুর্ভোগ লাঘবে তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল প্রত্যাহার জরুরি

7

চট্টগ্রাম জেলার সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমের উপজেলা বাঁশখালী। সাগর, নদী ও সবুজ পাহাড়ের অরণ্যঘেরা এক জনপদের নাম বাঁশখালী। এ উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা উপক‚লবর্তী। সিংহভাগ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু বাঁশখালী উপজেলার অধিবাসীদের বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে, সারা বাংলাদেশ যখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে, তখন বাঁশখালীর উপক‚লীয় এলাকার অধিকাংশ সড়ক ভঙ্গুর, কাঁচা এবং চলাচল অনুপযোগী। এমনকি মূল সড়কটিরও কাক্সিক্ষত কোন সংস্কার-সম্প্রসারণ হয়নি, ফলে প্রতিনিয়ত এ সড়কে দুর্ঘটনা লেগে থাকে। এ জির্ণদশার মধ্যে বাঁশখালীবাসীর গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে তৈলারদ্বীপ সেতু। বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল এ সেতুটি। সেতু হবে, বাঁশখালীর মানুষ কোনরকম দুর্ভোগ-কষ্ট ছাড়া শহর-বন্দরে যাতায়াত করবে-এমনটি প্রত্যাশাকে ধূলোয় মাটিতে মিশিয়ে দিল একশ্রেণির স্বার্থন্বেষী মহল। ২০০৬ সালে এ সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৭ সালে এসে সেতুটিতে টোল ধার্য্য করা হয়। সেইসময় বাঁশখালীবাসী আন্দোলন করলেও তা আমলে না নিয়ে টোল আদায় অব্যাহত রাখে সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু টোলের নামে ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে দীর্ঘ ১৭ বছর নিজেদের ইচ্ছেমত টোল আদায় করলে এ সেতু ব্যবহারকারী এলাকাবাসী প্রতিবাদে স্বোচ্চার হন। বিভিন্ন সময় থেমে থেমে টোল আদায়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে দেখা গেছে এলাকাবাসীকে। কিন্তু অতি সম্প্রতি ইজারাদারের বাড়াবাড়ি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ইজারাদারের কট‚ক্তিসহ নানা অনিয়মের কারণে বাঁশখালীবাসী ফুঁসে ওঠে। তারা সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৈলারদ্বীপ সেতুর ইজারা বাতিল ও টোল প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে আসছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে ‘আমরা বাঁশখালীবাসী’র ব্যানারে কয়েকশত লোক মানববন্ধন করেছে সাঙ্গু নদীতে নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুতে চাঁদাবাজি বন্ধ, সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবি ও ইজারাদার আইনুল কবীর কর্তৃক বাঁশখালীবাসীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতুটি উদ্বোধন করা হয় ২০০৬ সালে। সাঙ্গু নদীর উপর আরও ৫টি সেতু রয়েছে। সেগুলোতে কোনো টোল নেওয়া হয় না। একমাত্র তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল নেওয়া হয়। প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পর ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে টোল আদায় করা হচ্ছে। ৩ বছরের ইজারা দিয়েই যেখানে নির্মাণ ব্যয় উঠে যায়, সেখানে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে টোল আদায় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জনগণের অধিকারের পরিপন্থি। তাই আমরা মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে এই সেতুর টোল প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈলারদ্বীপ সেতুর অন্যায্য টোল বাঁশখালীবাসীর উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইজারাদার প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। ফলে টোল আদায় রূপ নিয়েছে চাঁদাবাজিতে। বাঁশখালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেছে। সাধারণ মানুষের জাগরণকে থামিয়ে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে সেতুর ইজারাদার আইনুল কবির। তিনি বাঁশখালীর সংসদ সদস্য ও বাঁশখালীর জনগণকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা তার এধরনের ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে টোল আদায় বন্ধ ও ইজারা বাতিলের জোর দাবি জানান। বাঁশখালীবাসীর দাবি সাঙ্গু নদীর উপর দোহাজারি সেতুর মত একটি বড় সেতুসহ আরো পাঁচটি সেতু রয়েছে। এর কোনটিতেই টোল আদায় করা হয় না। অথচ তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায় করা হয়, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ছোট্ট এ সেতুতে কোন কোন গাড়ির টোল আদায়ের পরিমাণ শাহ আমানত সেতুর চেয়েও বেশি। মান্ধাতার আমলের রসিদ দিয়ে ইচ্ছেমত ইজারাদার টোল আদায় করছে, যা স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা মনে করি, পত্রিকায় ইজারাদারের টোল আদায়ের যে অনিয়ম প্রকাশিত হয়েছে, স্থানীয় অধিবাসীদের যে দাবি-এর যৌক্তিকতা বিবেচনা করে তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল প্রত্যাহারসহ ইজারা বাতিল করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বাঁশখালীবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে আন্তরিক হবেন-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।