কারাগারে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন ডটকমকে জানান, ছোট সাজ্জাদকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে, আর তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে ফেনী জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সপ্তাহখানেক আগে সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার রাতে।
জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে বন্দিদের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে। বন্দি স্থানান্তরের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে’। খবর বিডিনিউজের
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে পরিচিত। এ ‘ছোট সাজ্জাদ’ হলেন হুলিয়া নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী।
দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়কে দিনের বেলায় আড়াআড়ি বাস রেখে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীবাহী মাইক্রোবাস আটকে গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যার আসামি ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। তার অনুসারী হিসেবে তার পক্ষে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদাবাজি করেন ছোট সাজ্জাদ।
গত ১৫ মার্চ ঢাকার ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে বিভিন্ন খুন, ফেসবুক লাইভে এসে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার ওসিকে পেটানোর হুমকিসহ নানা কারণে আলোচিত ছিল ছোট সাজ্জাদ।
গ্রেপ্তারের পর ছোট সাজ্জাদকে চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী বর্ণনা করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেছিলেন, ‘গত বছরের আগস্টে অক্সিজেন এলাকায় জোড়া খুন এবং পরবর্তীতে চান্দগাঁও এলাকায় প্রকাশ্যে একজনকে গুলি করে হত্যা করেছে সে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী কার্যক্রম করত। দুবাই প্রবাসী সাজ্জাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে সে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ধরনের হত্যাকান্ডসহ নানা ধরনের অপরাধী কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করত ছোট সাজ্জাদ’।
নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে ধাওয়া করে প্রাইভেটকার থামিয়ে দু’জনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হন আরও দুইজন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাতজনের নাম দিয়ে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর ‘পরিকল্পনায়’ খুনের ওই ঘটনা ঘটে।
এছাড়া গত ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের পরও আলোচনায় আসে ছোট সাজ্জাদের নাম।
আর ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের পর ফেসবুক লাইভে ‘কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে সাজ্জাদকে ছাড়িয়ে আনা’, বিরোধী পক্ষকে হুমকি দেওয়াসহ নানা কারণে আলোচিত ছিল তার স্ত্রী তামান্না। গত ১০ মে জোড়া খুনের মামলায় তামান্নাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।











