চুল : সাত কাহন

7

তালুকদার হালিম

চুল মানবদেহের সৌন্দর্য্য বর্ধনকারী একটি অংশবিশেষ। অনেক কাল হতে চুল সম্পর্কিত বহু কথা বিভিন্ন সময়ে শোনা যেতো। চুল নিয়ে যাঁরা মাথা ঘামান তাঁরা চুলকে ধরে রাখার জন্য অনেক উপায় অবলম্বন করে থাকেন। তৎমধ্যে স্নানের পূর্বে বা পরে রোজ তৈল দেয়া, ক্রিম মাখা, স্যাম্পু করা, সাবান মাজা, মাথা ম্যাসেজ, হালকাভাবে মাথা আঁচড়ানো, চুল ছোট করে কাটা ইত্যাদি। কেউ কেউ মনে করে থাকেন যেটা যাবার সেটার ব্যাপারে চিন্তা করে লাভ নেই, চলেই যাবে। উপরন্তু চিন্তার কারণে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হন। চেহারার মাধুর্য ধরে রাখতে চুল উঠে যাবার পর কেউ পরচুলা ব্যবহার করেন, কেউ গ্রাফটিং করে চুল গজান কেউ বিভিন্ন বিজ্ঞাপন নির্ভর হয়ে মাথার দুপাশের চুল দ্বারা পালমাইজড সমেত চুল রাখেন। এর পরেও আসল চুলের তৃপ্তি পান না। চুল বিশেষত তিন প্রকার, খাড়া চুল, প্লেন বা সিল্কি চুল এবং কোঁকড়া চুল। তিনটির মধ্যে কোঁকড়া চুলধারী পুরুষের কদর সমাজে অধিক। এ কোঁকড়া চুলওয়ালাদের চুলই সর্বাগ্রে কমে যায় বা তাড়াতাড়ি উঠে যায়। তাঁরা চুল না উঠার জন্যে অনেক রকমের অত্যন্ত দামে হরেক প্রকারের তেল ব্যবহার করেও কোন সুরাহার কুল কিনারা পাননি। ক্যানসার বা এইডস’র চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে রাখার মত অনেকটা। চুল নিয়ে আমাদের দেশে কিংবা বিশ্বের কোথাও গবেষণা হয়েছে কিনা অধীনের জানা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন বয়সের ভিন্ন পেশার ৭৩ জন পুরুষ হতে ৩০-৫০ বৎসর বয়সের লোক যাদের মাথায় চুল দ্রæত উঠে যাচ্ছে বা পাতলা হয়ে গেছে এবং ৫১-১০৫ বৎসর বয়সের লোক যাদের মাথায় এখনো বয়সের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমানের চুল রয়েছে তাদের বর্ণনায় একটি সত্য তথ্য সংগ্রহ করে সর্বজনে জ্ঞাত করার নিমিত্তে পেশ করলাম। আশা করি এ প্রাথমিক তথ্যকে কোন সংস্থা বা বিশেষজ্ঞ সামান্য হলেও কাজে লাগাতে পারবেন।
মাথার চুল উঠে বা কমে গেছে তাঁদের থেকে গৃহিত তথ্যমতে সম্ভাব্য যে কারণ সমূহ রয়েছেঃ (৩০-৫০) বয়সী।
(অ) সরাসরি ফ্যানের বাতাস (আ) টেনশন (ই) বায়ুচড়া (ঈ) রাতজাগা (উ) চুলে রং দেয়া (ঊ) হেলমেট ব্যবহার করা (্ঋ) অনিয়মিত খাবার (..) সঠিক পরিচর্যার অভাব (এ) অগোছালো জীবন যাপন (ঐ) সমুদ্রের লবনাক্ত পানি ব্যবহার (ও) কুয়ার পানি ব্যবহার (ঔ) অপরিমিত খাবার (ক) খুশকী (চ) রক্ত আমাশয় (ছ) সিলিড্রিন উত্তেজনা (ট) অতিরিক্ত মেজাজ (ঠ) অতিরিক্ত স্যাম্পু ব্যবহার (ড) প্রত্যহ সাবান ব্যবহার (ঢ) ঘন ঘন মাথায় ব্রাশ করা (ণ) বংশগত (ত) মাথার তালু ঘামা (থ) কলম্বো নারিকেল তৈল ব্যবহার করা; (দ) কোন তৈল ব্যবহার না করায় (ধ) শাক শবজী না খাওয়ায় (ন) চুলে ইলেকট্রিক হিট দেয়ায় (প) অধিক সময়কাল শীতাতপে থাকা (জ) অত্যাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করা ইত্যাদি। বয়সের তুলনায় যাঁদের পর্যাপ্ত পরিমাণে মাথায় চুল রয়েছে তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী চুল থাকার সম্ভাব্য কারণ সমূহ (৫১-১০৫ বৎসর বয়সী)
১। বংশগত ২। খেলাধুলা/আড্ডা ৩। ফূর্তিতে থাকা ৪। স্নানের পূর্বে সরিষার তৈল ব্যবহার করা। ৫। স্নানের পরে সরিষার তৈল ব্যবহার করা ৬। তিলের তৈল ব্যবহার করা ৭। ছোটবেলা হতে নারিকেল তৈল ব্যবহার করা ৮। কোন তৈল ব্যবহার না করা ৯। নিরামিশ গ্রহণ ১০। সার্বক্ষণিক দুশ্চিান্তমুক্ত থাকা ১১। উদ্বেগহীন ভাবে সবকিছু গ্রহণ ১২। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা ১৩। নিয়মিত ঘুম ১৪। পরিমিত খাবার ১৫।স্নানের পর আলতো করে টাওয়েল ব্যবহার ১৬। স্নানের ঘন্টা খানেক পর চিরুনী ব্যবহার ১৭। নাস্তার পূর্বে প্রত্যাহ ভোরে স্নান ১৮। প্রত্যহ খাঁটি গুরুর দুধ পান ১৯। অত্যাধিক যৌন ক্ষুধা নিবারণ ২০। চুল ছোট করে রাখা ২১। মেজাজ ঠান্ডা রাখা ২২। দৈনিক এক বেলা ভাত খাওয়া ২৩। ছোটবেলা থেকে পান্তা ভাত খাওয়া ২৪। সব ধরণের খাদ্য গ্রহণ ২৫। উন্নতমানের খাদ্য গ্রহণ ২৬। মৌসুমী ফলমূল খাওয়া ২৭। ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য নিয়মিত খাওয়া ২৮। যোগ ব্যায়াম করা ২৯। সামাজিকতা বজায় রাখা ৩০। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের স্বপক্ষে বলা ৩১। যেকোন কাজে স্রাষ্টা ভীতি ও ভরসা থাকা ৩২। সাবান ব্যবহার না করা ৩৩। স্নানের পূর্বে চুল ম্যাসেজ করা ইত্যাদি।

লেখক: কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক