পূর্বদেশ ডেস্ক
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা অস্থিরতা, জনমনে বাড়তে থাকে অস্থিরতা।
এমন পরিস্থিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে। এর মধ্যেই গত চার দিনে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ২০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ৫০ টিরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে গত ১০ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯৫ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
গত কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা থাকলেও ১৩ নভেম্বর (গতকাল বৃহস্পতিবার) দিনব্যাপী নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা ছিল রাজধানী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে বাড়ানো হয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ডিএমপি জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ফলে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
অন্যদিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামি ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, রাজধানীতে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯৫ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা ১৩ নভেম্বর ঘিরে রাজধানীতে নাশকতা সৃষ্টি পরিকল্পনা ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গ জড়িত।
১২ নভেম্বরের অভিযানে ডিবি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মহিলা লীগের সভাপতি। ডিবি বলছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এর এক দিন আগে, ১১ নভেম্বর ৪৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১০ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয় আরও ২২ জন, যাদের কাছ থেকে পুলিশের হাতে আসে ভয়েস রেকর্ড, চ্যাট হিস্ট্রি ও মোবাইল যোগাযোগের প্রমাণ।










