চাঁদাবাজ হিজড়াদের আইনের আওতায় আনার দাবি

2

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রুপ দুটির সদস্যরা। তাদের এক অন্যপক্ষকে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও চাঁদাবাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অপরপক্ষও পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষ গ্রুপকে চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তাদের একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফাল্গুনী হিজড়া, অন্যটির নেতৃত্বে সুফিয়া হিজড়া- স্থানীয়ভাবে যোগাযোগ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে দুই পক্ষ একে-অপরকে ঘায়েল করতে এসব অভিযোগ আনছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের চাঁদাবাজিতে অতীষ্ঠ বলে জানিয়েছেন। তারা তৃতীয় লিঙ্গের এই চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধও জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুফিয়া হিজড়া গ্রুপ। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুফিয়া হিজড়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইলু হিজড়া, সিমলা হিজড়া, সাথী হিজড়া এবং অন্যান্যরা।
তারা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে ফাল্গুনী হিজড়ার সক্রিয় ইন্ধন ছিল। তার গুন্ডাবাহিনী মুরাদপুরে হামলা চালিয়েছিল। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফাল্গুনী হিজড়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তিনি আমাদের উপর নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন, যারা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করেছে তাদেরকে মামলা, হুমকি দিয়ে জোর করেছে’।
তারা আরও বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত ফাল্গুনী হিজড়া চট্টগ্রামে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালনা করছে। তিনি আমাদেরকে জোর করে মামলার হুমকি দিয়ে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। আমরা তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায় প্রশাসন, সরকার এবং জনগণের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি- এ ধরনের কার্যকলাপ আর সহ্য করা সম্ভব নয়।
তারা বলেন, ‘ফাল্গুনী হিজড়া হিজরাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ এবং সহায়তা প্রকল্পের অর্থ নিজস্ব স্বার্থে অপব্যবহার করে প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করছেন’। এ সময় তারা প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যদি অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আমাদের সম্প্রদায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্য পথে যেতে বাধ্য হবে’।
এসময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে- ফাল্গুনী হিজড়ার অপরাধ ও অপকর্মের নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করা, তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারি বরাদ্দ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা, সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দায়বদ্ধ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা এবং যারা হামলা, হুমকি বা মিথ্যা মামলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে অপর পক্ষ ফাল্গুনী হিজরা গ্রুপও সুফিয়া হিজরা গ্রুপের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে।
এদিকে নগরের সর্বত্র তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সদস্যরা একাধিক গ্রুপে, জোনে এবং এলাকায় বিভক্ত হয়ে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের চাহিতমতো চাঁদা না দিলে তারা অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং প্রতিবাদকারীদের মর্যাদাহানিকর কর্মকান্ড করেন। তাদের এই চাঁদাবাজি থেকে সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারল ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।