চবিতে কোটা আন্দোলনকারীকে হত্যার হুমকি

8

চবি প্রতিনিধি

কোটা পূনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দেয়া অভিযোগ উঠেছে। পিতার নাম্বারে ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চবির নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খান তালাত মাহমুদ রাফি। তিনি নিজ বিভাগের সিনিয়র ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের হৃদয় আহমেদ রিজভীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন।
গত রোববার রাত সাড়ে দশটার দিকে বাবার নাম্বারে ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী রাফি।
তিনি বলেন, গতকাল রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি আমার আব্বুর নাম্বারে ফোন দিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। আমার বাবাকে ওই ব্যক্তি বলে, ‘আপনার ছেলেকে, যদি কোটা আন্দোলন থেকে সরে যেতে না বলেন তাহলে হয়তো আপনার ছেলেকে আর পাবেন না, তার লাশটা পাবেন। দেখা যাবে যে কোথাও না কোথাও মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে লাশটা এম্বুলেন্সে করে পাঠানো হবে।’ পরে আবার আব্বু পরিচয় জানতে চাইলে লোকটি বলে, ‘আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। ক্যাম্পাসেই থাকি।’ এটা বলে ফোন কেটে দেয়।
রাফি বলেন, যে নাম্বার থেকে কল করা হয়েছিল সেটি নিয়ে আমি আমার সাধ্যমতো খোঁজ খবর নিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে ওটা আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ২০১৯-২০ সেশনের হৃদয় আহমেদ রিজভীর নাম্বার। তাঁর বাড়ি নরসিংদী জেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে থাকে। আমি যতো জায়গাতেই খোঁজ নিয়েছি প্রত্যেক জায়গা থেকেও একই তথ্য এসেছে।। এছাড়াও হুমকিদাতা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রæপ চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসির) অনুসারী বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী রাফি আরো বলেন, আমি এখন ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমি আব্বুকে স্থানীয় থানায় জিডি করতে বলেছি। আমিও নিরাপত্তা চেয়ে হাটহাজারী থানায় জিডি করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এদিকে হুমকি প্রদান করা সেই নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
অপরদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি উপগ্রুপ সিএফসির নেতা মির্জা খবির সাদাফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত হৃদয় আহমেদ রিজভী নামে যার কথা বলা হচ্ছে তাকে আমি চিনি না। দ্বিতীয়ত ছাত্রলীগ থেকে এ ধরণের কোনো নির্দেশনা নেই। আন্দোলন যে কেউ করতে পারে। আমাদের ছাত্রলীগের অনেকই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এ ধরণের কাজ যে করেছে তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে সেই সম্পূর্ণ দায়ী। ছাত্রলীগের সাথে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ অহিদুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে সকালে প্রক্টর অফিস বরাবর একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি যেহেতু ফৌজদারি অপরাধ, তাই আমরা তাদেরকে বলেছি থানায় গিয়ে দ্রæত একটি জিডি করতে। থানাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।