চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আলু চাষে মশগুল কৃষক

1

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

প্রতিবারের ন্যায় চলতি মৌসুমেও চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আলু চাষিরা যথা নিয়মে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমদিকে জমিতে পুরোদমে আলু রোপণ শুরু করে চন্দনাইশের ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে সহস্রাধিক কৃষক পুরোদমে তাদের জমিতে আলু চাষ শুরু করেছে।
শীতের শুরু থেকে উপজেলার দোহাজারী, হাছনদন্ডী, চাগাচর, বৈলতলী চর এলাকায় পুরোদমে আলু রোপণের ধূম পড়েছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আলু চাষিরা যথা নিয়মে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমদিকে জমিতে পুরোদমে আলু রোপণ শুরু করে। আলুর চারা গজিয়ে উঠতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। চন্দনাইশে চলতি মৌসুমে ৪২০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হচ্ছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়। চলতি মৌসুমে, চন্দনাইশের হাছানদন্ডী, দোহাজারী, চাগাচর, চন্দনাইশ পৌরসভা ও সাতকানিয়ার খাগরিয়া, নলুয়া, চরতি আমিলাইশ এলাকায় সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়। এ আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল রয়েছে তিনটি হিমাগার। মরা শঙ্খচরে প্রচুর পরিমাণ আলুর চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমেও একইভাবে এসব এলাকায় ইতোমধ্যে জমিতে দেশি আলুর বীজ রোপণ শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাছানদন্ডী ইউনিয়নের একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতোমধ্যে তাদের আলু ক্ষেতের ৮০ শতাংশ জমিতে আলুর বীজ বপন করা হয়েছে। এভাবে পুরো চরের প্রায় জমিতে আলু ক্ষেতে ভরপুর। জমিতে আলু চাষ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে কৃষকদের লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে অনেকেই লাভের আশায় দাদন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়েছেন বলেও জানান।
চন্দনাইশের দোহাজারীর পৌর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে জমির খাজনাসহ দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। একইভাবে চাগাচরের মোমেন ও হাছনদন্ডীর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনসহ অর্ধ সহস্রাধিক কৃষক চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আলুর বীজ রোপণ করেছেন।
কৃষকেরা জানান, তারা সরকারিভাবে কোনরকম প্রশিক্ষণ পান না। তাছাড়া আলু বা সবজি চাষের জন্য কোনরকম ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। কোনরকম আবহাওয়ার বৈরি প্রভাব পড়লে আলু ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ হয়। তখন কৃষি অফিসের লোকজন তাদেরকে কীটনাশক ব্যবহারের ব্যাপারে ধারণা দিয়ে থাকেন বলে জানান। এ সকল এলাকার কৃষকেরা অধিকাংশ সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল।
কৃষকেরা জানান, চন্দনাইশে তিনটি হিমাগার রয়েছে। এ সকল হিমাগার থেকে তারা অঙ্কুরিত আলু বীজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং অঙ্কুরিত ছাড়া বীজ ৩০ টাকা করে কিনতে হয়েছে। তাদের মতে, প্রতি ২ শতক জমিতে ৬ কেজি আলুর বীজ রোপণ করা যায়। তাছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশকের টাকা বাদ রেখে কৃষকের লভ্যাংশের টাকা হিসেব করা হবে। ৩টি হিমাগারে মজুত রেখে পরবর্তীতে এ আলু সারাবছরের চাহিদা মেটাবে।