চন্দনাইশ উপজেলায় পাঁচ শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত

48

চন্দনাইশ উপজেলায় ২০১৮ সালের ৫ শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন ৫ মহিলা। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী সুজিতা তালুকদার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী শারমিন সুলতানা, সফল জননী আনোয়ারা বেগম, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী রাজিয়া সুলতানা, নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী সফিয়া বেগম। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী সুজিতা তালুকদারের স্বামী প্রদীপ তালুকদার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। বিয়ের ৫ বছরের মধ্যে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে, ৫ বছর শয্যাশায়ী থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বামীর মৃত্যুকালে ৮ ও ৬ বছরের দু’টি সন্তান নিয়ে জীবন শুরু করেন। স্বামীর চিকিৎসা নিতে নিঃস্ব হয়ে যায় সুজিতা। এ সময় তার কোন আত্মীয় স্বজন সহযোগিতার হাত বাড়াইনি। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছিলো সুজিতা। ঠিক সে সময় শাশুরী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপরও সুজিতা ভেঙ্গে পড়েনি। নিজের বাড়ি আঙ্গিনায় সবজি চাষের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন। সে সাথে দু’ছেলের পড়ালেখা চালিয়ে যান স্বামীর শেষ ইচ্ছা পূরনের জন্য। বর্তমানে তার বড় ছেলে অনার্স, ছোট ছেলে ১০ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী শারমিন সুলতানা পশ্চিম এলাহবাদের গরীব কৃষক আলাউদ্দীনের কন্যা। পিতার ক্ষুদ্র আয়ে অতি কষ্টে, প্রাইভেট টিউশনি করে ভালো ফলাফল নিয়ে ২০১৭ সালে পশ্চিম এলাহবাদ সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে মাস্টার্স পাশ করে এবং চাকরি হয়। বর্তমানে সে ১৫ হাজার টাকা বেতন পায়। সফল জননী আনোয়ার বেগম পশ্চিম জাপরাবাদ বৈলতলীর প্রবীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. খলিলুর রহমানের স্ত্রী। তার স্বামী প্রথম চাকরি জীবনে মাত্র ৭২ টাকা বেতন পেতেন। সীমিত আয়ের উপর নির্ভর করে ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীসহ ১০ জনের খাওয়া পড়া, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ পারিবারিক খরচ অনেক কষ্টে বহন করেছেন। বর্তমানে প্রথম ছেলে এম.এ.এল-এল.বি পাশ করে বন্দরে কর্মরত রয়েছে, ২য় ছেলে এম.এ,এল-এল.বি পাশ করে এডিশনাল পিপি হিসেবে চট্টগ্রাম জজ কোটে, ৩য় ছেলে এমএ পাশ করে বন্দরে সার্জন্ট হিসেবে কর্মরত আছে। বড় মেয়ে ডিগ্রী পাশ করে স্বামীর সাথে প্রবাসে, মেজ মেয়ে এলএমএফ, ডিএমএস, আরএমপি প্যারামেটিক পাশ করে শিক্ষকতার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবায় রয়েছে, ছোট মেয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স পাশ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে। সমাজ পরিবারের সাথে সংগ্রাম করে ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্টিত হয়েছেন। সমাজের গোরামী, পরিবারের অস্বচ্ছলতা, অর্থনৈতিক দূর্বলতা, পারিবারিক ঝামেলা, সকল বাধাবিঘœ অতিক্রম করে সন্তানদের প্রতিষ্টিত করেছেন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন রাজিয়া সুলতানা পৌরসভার গাছবাড়িয়া বদুরপাড়ার মো. নুরুল আলমের স্ত্রী। তিনি এনজিও সংস্থাতে প্লোটি লাইব স্টোক হিসেবে বিগত ১০ বছর ধরে কাজ করছেন। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গবাদি পশুর চিকিৎসা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অগ্রনী ভূমিকা পালন, যৌতুকবিহীন বিয়ের ব্যবস্থা করে সুনাম অর্জন করেছেন। ধাত্রী প্রশিক্ষন গ্রহণ করে ধাত্রী বিদ্যায় পারদর্শীতা অর্জন করে সমাজের গরিব অসহায় মানুষের পাশে থেকে সরকারি-বেসরকারি সম্পদ/ঋন আদায়ে সহযোগিতা করে গেছেন। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন সফিয়া বেগম পূর্ব চন্দনাইশ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী। ১৯৯০ সালের ১৫ মার্চ বিবাহের ২ বছর পর স্বামী ২য় বিয়ে করে। শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন, চলে যায় বাপের বাড়ি। এর মধ্যে এর মধ্যে ৩ সন্তানের জন্ম দেয় সফিয়া। বাপের বাড়িতেই ভাইদের নিকট থেকে সুযোগ সুবিধা না পেয়ে টিউশনি করে সংসার চালাতো। কোন কোন সময় অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও করেছে। সংসারে অভাবের কারনে প্রথম ছেলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে দোকানে চাকরী নেয়, পরবর্তীতে ঋণ নিয়ে করে বিদেশে পাঠায়। ছোট ছেলে অনার্স পাশ করে, মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি এবং ছেলে-মেয়েরা টিউশনি করে সংসার, পড়ালেখার খরচ যোগান। বর্তমানে তিনি নিজেকে সুখী মনে করেন।