চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

39

চন্দনাইশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত ৮ দিন ধরে টানা বৃষ্টি, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বড়পাড়া (কসাইপাড়া), পাঠানীপুল এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে ২ থেকে আড়াই ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এই সড়কের পানি নেমে যাওয়ার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। গত কয়েকদিন ধরে এই সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে চালতে থাকায় এই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমে যায়। বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
গত ১১ জুলাই পাহাড়ি ঢলের পানি শঙ্খনদীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় নদীর আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পুরো চন্দনাইশ উপজেলা প্লাবিত হয়ে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে পানি কমতে শুরু করে। দুপুরের দিকে স্থানীয় সড়কগুলো থেকে পানি নেমে গেলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।
এছাড়া উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা, চন্দনাইশ পৌরসভা, সাতবাড়িয়া, হাশিমপুর, বরকল, বরমা, বৈলতলী, কাঞ্চনাবাদ, জোয়ারা ও দুর্গম ধোপাছড়ি ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রামীণ সড়ক বন্যার পানির ঢলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।
এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং ব্যাক্তিগত উদ্যেগে ত্রাণ তৎপরতা অব্যহত রেখেছেন। এবারের বন্যায় চন্দনাইশের বিভিন্ন এরাকার মৎস্য প্রজেক্টগুলো ডুবে গিয়ে মৎস্য চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাতবাড়িয়ার জসীম উদ্দীনের ১০টি মৎস্য প্রকল্প বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার মাছ চলে যায় বলে জানান তিনি। একইভাবে পূর্ব জোয়ারার নজরুল ইসলাম, বৈলতলীর মাও. আলতাফ হোসেন, এসএম মুসা তসলিম, দেলোয়ার হোসেন, হারলার চন্দন সর্দার, লক্ষণ সর্দার, স্বপন সর্দারসহ বেশ কয়েকজন মৎস্য চাষির প্রকল্প বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে লক্ষ লক্ষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য অফিস ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। বেশ কিছু এলাকায় বন্যার পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করায় এবং বন্যা কবলিত মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নেওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। যা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বন্যার পানিতে প্রতিদিন বেশ কিছু বিষাক্ত সাপ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ জনকে সাপে কেটেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আউশ ধান ও আমন ধানের বীজতলা এখনো পানির নিচে রয়েছে তবে কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেছেন, এতে আউশ ধানের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। আজকালের মধ্যে আউশ ধান ভেসে উঠতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম বদরুদ্দোজা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল দপ্তর থেকে পৃথক পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে জেলা প্রসাশক বরাবরে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, বন্যা পরিস্থিতিসহ সার্বিক দিক তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।