মো. শাহাদাত হোসেন, চন্দনাইশ
চন্দনাইশে শিম চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে মৌসুমের পর মৌসুম। উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫’শ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে বিস্তীর্ণ শিম ক্ষেতগুলো ছেয়ে আছে ফুলে ফুলে, দূর থেকে যেন সাত রংয়ের রঙিন মাঠ মনে হয় যে কারও কাছেই।
জানা যায়, উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে শিম বেশি চাষ হয় ধোপাছড়ি ইউনিয়ন ও দোহাজারী পৌরসভা এলাকায়। চলতি মৌসুমে ধোপাছড়ি ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর, দোহাজারী পৌরসভায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। কিছু দিন ধরে ধোপাছড়ি অঞ্চলের শিম যাচ্ছে দোহাজারী পাইকারী বাজার হয়ে চট্টগ্রাম নগরীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বর্তমানে প্রতিকেজি দেশি শিম খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ইতোমধ্যে শিম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চন্দনাইশের অনেক কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামি ১০ দিনের মধ্যে পুরো উপজেলার শিম চাষিরা পরিপক্ক শিম বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।
শিম চাষ করে সফলতার মুখ দেখা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সরকারি বেসরকারি চাকরির জন্য বসে না থেকে বিজ্ঞান সম্মতভাবে চাষাবাদে নেমে পড়লে আজকের যুব সমাজ সফলতার দেখা পাবে নিঃসন্দেহে।
একই এলাকার মো. আলম চলতি মৌসুমে ৮০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি ১০-১৫ কেজি করে কয়েকবার পরিপক্ক শিম পাইকারী বাজারে ১২০-১৩০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তিনি।
চিরিংঘাটা বøকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাজু দাশ জানান, চলতি মৌসুমে ধোপাছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ২০০ হেক্টরের মতো শিম চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫০ হেক্টর বেশি। প্রতি মৌসুমে বাড়ছে শিম চাষের পরিধি শিম চাষ করে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা। প্রথম পর্যায়ে শিম ও শিমের বিচি বিক্রি করেন এবং পরবর্তীতে বিক্রির জন্য শিমির বিচি শুকিয়ে সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় মুহুর্তে বিক্রি করতে পারেন। একইভাবে দোহাজারী, দিয়াকুল ও চাগাচর ব্লকে চলতি মৌসুমে ২০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন, পাহাড়, নদী ও সমতল পরিবেষ্টিত চন্দনাইশ উপজেলায় সিজনাল সবজির চাষাবাদ হয় প্রচুর। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ বেশি হওয়ায় চন্দনাইশ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের শষ্য ভান্ডার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। শীতকালীন সবজির পাশাপাশি শিম চাষও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চন্দনাইশে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা হিসেবে সরকারিভাবে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ প্রদান করায় সফল হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।











