চন্দনাইশে কাক্সিক্ষত দামে মুলা বিক্রি করে খুশি কৃষকরা

3

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চন্দনাইশের দোহাজারীতে শঙ্খের চরে শীতকালীন সবজির মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে মুলা। কাঙ্খিত দাম পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত সংশ্লিষ্ট কৃষকেরাও। পাশাপাশি অন্যান্য শীতকালীন সবজির চাষাবাদও করছেন তারা।
মাত্র ৩ মাসের মাথায় হাইব্রিড মুলার চাষ করে কৃষকেরা বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাইকারীতে বিক্রি করছেন তারা। স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ শুক্কুর বলছেন, ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ শতক জমিতে হাইব্রিড মুলার চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ফলনের ৩০ শতাংশ বিক্রি করে খরচের দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। পুরোপুরি বিক্রি হলে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
শুধু তিনি নন, এই চরে আরও ৪০ জনের বেশি কৃষক আগাম মুলার চাষ করেছেন এবং বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন। দোহাজারীতে শীতের সবজি মুলা এবার আগেভাগেই বাজারে চলে এসেছে। চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, রায়জোয়ারা, চরবরমা, বৈলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মুলাসহ বিভিন্ন সবজির আগাম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বেশি দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকেরাও বেজায় খুশি।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানা যায়, চন্দনাইশে ১২০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য রয়েছে। ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে আরো বেশি জমিতে আগাম সবজি চাষাবাদ হয়েছে। আগাম জাতের মুলা চাষের ফলন এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক মোহাম্মদ ফজল জানান, ১৫ শতক জমিতে আগাম মুলা চাষাবাদ করেছি। বীজ রোপণের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে বর্তমানে ফলন এসে বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। মুলার আবাদের মধ্যেই এখন বারোমাসি মরিচ রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছি। মুলা বিক্রি শেষ হলে এরপর থেকে বাজারে আগাম মরিচ তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। বাদ ব্যক্ত করেন। আরেক কৃষক রফিক বলেন, ৫০ শতক জমিতে মুলা চাষ করে এখন বিক্রি করতে শুরু করেছি।
কৃষি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেত থেকে কৃষকেরা মুলা তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে ক্ষেত থেকে তোলা মুলা ধুয়ে আঁটি বাঁধছেন বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অনেকেই আবার বাজারে মুলা বিক্রি করছেন। কৃষকেরা বলছেন, প্রতি একর মুলা চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। আর বাজার মূল্য অনুযায়ী প্রতি একর ক্ষেতের মুলা বিক্রি করে পাওয়া যায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন, মুলার পাশাপাশি চন্দনাইশে শঙ্খ নদীর চরসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের অনেক সবজি আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে এবং মাঠে থেকে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছি। আগাম এসব সবজির ফলনও হয়েছে ভালো।