চট্টগ্রাম শহরে দিনদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে

4

দেশের রাজধানী ঢাকার চেয়ে অতীব গুরুত্ব বহন করে আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম শহরে বিগত যেকোনো দিনের তুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনা দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক চলাফেরায় আতঙ্কিত হচ্ছে ভীষণভাবে। শহরের নতুনব্রিজ এলাকা, এক্সেস রোড, বহদ্দারহাট মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, অক্সিজেন মোড়, মুরাদপুর মোড়, ষোলশহর ২নং গেট মোড়, চকবাজার তেলিপট্টি মোড়, প্যারডকর্নার, আন্দরকিল্লাহ মোড়, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, প্রি-পোর্ট মোড়সহ জনাকীর্ণ মোড়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সকাল-সন্ধ্যায় অফিসগামী ও অফিসফেরত মানুষ ছিনতাইয়ের ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের ১নং, ৪নং, ২নং মিনিবাসগুলো মানুষের আতঙ্কের। সবার একই কথা-‘উক্ত মিনিবাসগুলোর ড্রাইভার-হেল্পারও এসব ছিনতাইকারীদরে সাথে জড়িত’। কিছুদিন আগে একজন স্কুল শিক্ষিকা বিকেল ৫টায় আসছেন পটিয়া থেকে, ৪নং মিনেবাস করে যাবেন মুরাদপুর, তুলাতুলি এসে শিকার হন ছিনতাইয়ের। গলার চেইন নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। ছিনতাইকারী ছিলেন যাত্রী। দেখে আছেন বাসের হেল্পার-যাত্রী। আরেকটি ঘটনার সাক্ষি হলাম ১নং মিনিবাসে। একজন সাংবাদিক বিকেলে যাচ্ছেন অফিসে, চকবাজার থেকে ১নং মিনিবাসে ওঠে আন্দরকিল্লা এসে শিকার হলেন ছিনতাইয়ের। আন্দরকিল্লা মোড়েই যাত্রীবেশি ছিনতাইকারী তাঁর নিত্য অফিসকাজে ব্যবহৃত মোবাইলটি গাড়ির ভিতর থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে নেমে গেল। গাড়ির হেল্পার একটু শব্দ বা বাধাও দিলেন না। এরকম ঘটনা প্রতিদিনের। সবাই আতঙ্কিত। একটা বিষয় আরো বেশি ভাবাচ্ছে, এসব ঘটনায় থানায় গেলেই পুলিশ প্রশাসন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু থানায় রেকর্ড হচ্ছে কোনো ছিনতাইয়ের নয়, হারানোর।
আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় একটু দেখবেন প্লিজ। অফিসিয়াল কাজে নিয়ম মতো রেকর্ড হউক হারানোর। অসুবিধে নেই। কিন্তু এসব ছিসতাইকারী আমার আপনার তথা আমাদের এলাকার, সবাই যাতে ভয়হীনভাবে, আতঙ্কছাড়া চলাফেরা বা অফিস শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারে সে নিশ্চয়তাটুকু আশা করছেন জনগণ।
জনস্বার্থে
মিথিলা বড়ুয়া
মোমিনরোড, চট্টগ্রাম।