চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ প্রবেশমুখে শ্রমিক-কর্মচারীদের অবরোধ

2

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশিকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দরের তিন প্রবেশমুখে সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। এসময় তারা লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনালের বিদেশিদের সাথে ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বন্দরে প্রবেশের তিনটি পয়েন্ট বড়পুল মোড়, সিম্যান্স হোস্টেল গেট এবং বন্দরের টোল প্লাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে বন্দর অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন স্কপের নেতাকর্মীরা। তাদের এ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে অংশ নেন বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ। তাদের অবরোধের কারণে বন্দরমুখী কভার্ডভ্যান, ট্রাক, ট্রেইলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় সড়কে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। অবরোধ কর্মসূচি চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এসময় সমাবেশে স্কপ নেতা ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের আন্দোলন। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন বলেন, আমরা চাইলেই বন্দর অচল করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা সময় দিচ্ছি। বিদেশিদের টার্মিনাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। একই সাথে আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, বন্দর এখন লাভজনক হওয়ায় বিদেশিরা বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। অথচ এসব টার্মিনাল বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছে। বিদেশিদের দিয়ে দেওয়া হলে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এজন্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপের নেতা তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তসলিম হোসেন সেলিম, ইব্রাহীম খোকন, খোরশেদুল আলম, মছিউদ দৌলা, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, রিজওয়ানুর রহমান খান, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহিদ উদ্দিন শাহিন, আব্দুল বাতেন প্রমুখ।
একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজার দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি করেছে বন্দর রক্ষা পরিষদ। গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় হতে মিছিলটি বনানীর মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহব্বায়ক মো. হোসাইন। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলার প্রধান সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রূমি, প্রধান বক্তা ছিলেন নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক নুরুল আবছার স্বপন।
এসময় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অত্যাধুনিক টার্মিনাল। এ টার্মিনাল দিয়ে আমদানিকৃত বর্তমান ট্যারিফ অনুয়ায়ী প্রতি টিইইউএস কন্টেইনারে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ১৬৫ ডলার আয় হয়। আর টার্মিনাল অপারেটরকে বিল দেয়া হয় গড়ে ১০ ডলার এবং অন্যান্য খরচ হয় আনুমানিক ৪০ ডলার। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিট আয় হয় ১১৫ ডলার। যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের বন্দরকে ৫০ ডলার দেয় তাহলে ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে প্রতি টিইইউএস কন্টেইনারে ৬৫ ডলার। যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালটি পরিচালনা করে তাহলে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের হিসাব অনুযায়ী তারা বাংলাদেশ থেকে ৯,৪০,২১,২১৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১১৪৭,০৫,৮৮,২৩৫ টাকা নিয়ে যাবে (এটি প্রতীকি হিসাবে দেখানো হলো)। এই বিপুল পরিমাণ ডলার বিদেশে চলে গেলে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে ডলার সংকটে পরবে। আর ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব পাশ হলে বিদেশে ডলার চলে যাওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। শফিকুল ইসলাম লিটনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিফতা উদ্দিন শিকদার টিটো, চিরন্তন চিরু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।