চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক ছিল হেফাজতের নিয়ন্ত্রণে

14

হাটহাজারী মাদ্রাসার আন্দোলনরত ছাত্র ও হেফাজত নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করেছে। গতকাল রবিবার ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কোথাও হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকে মাদ্রাসা ছাত্ররা। সাড়ে ১১টার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে সালেম (২০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের উপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। মাদ্রাসা ছাত্র সালেম হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইদরিস এর পুত্র বলে জানান হেফাজতের পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ। তিনি জানান, ‘আমাদের হেফাজত নেতৃবৃন্দ ও মাদ্রাসার ছাত্ররা বাসস্টেশন এলাকায় অবস্থান করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে অহেতুক তাদের উপর চড়াও হয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সালেমসহ তিন-চারজন মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর করে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে এবং ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার রেশ ধরে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ত্রিবেণী মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ালে পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রশিদুল হক সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সুরাহা করেন।’
ভোরে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেল লাইন উপড়ে ফেলে এবং চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের ইছাপুরে হেফাজত ইসলামের কর্মীরা ব্যারিকেড দেয়। এতে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেল লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে ইছাপুরে হেফাজত কর্মীদের দেয়া ব্যারিকেড পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তা তুলে দেন।
এছাড়া বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সড়ক বন্ধ করে দেয়ার পর পর হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে আবারও জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্ররা। হরতালের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে থেকেই সংঘর্ষের কারণে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাটহাজারীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাাব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হরতালের কারণে হাটহাজারীতে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। তবে এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।হফাজতের ঢাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও বয়স্ক মানুষদের দুর্ভোগ বাড়ছে। গত শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে বন্ধ রয়েছে হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক। সড়কের হাটহাজারী বাজার এলাকায় ইটের স্তূপ দিয়ে পাঁচ ফুট দেয়াল দিয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। সড়কে আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে সিমেন্টের ইলেকট্রিক পিলার।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে ডাকবাংলাের নতুন ভবনে হামলা করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় মাদ্রাসার বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। এসময় তারা ৩টি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এর আগে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের দুটি অংশ খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। কাচারী রোডের মুখে বাঁশের ব্যারিকেড দেয়। রিকশাসহ কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারেনি।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইদ্রিস বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করছেন। তাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা রয়েছে হরতাল চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স, খাদ্য ও ওষুধসহ জরুরি পরিবহনগুলো যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
দুপুর ২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, হরতালের শুরু থেকেই আমরা মাঠে আছি। তাছাড়া ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যানবাহন চলাচল সকালে কম থাকলেও আস্তে আস্তে বাড়ছে। এছাড়া হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আস্তে আস্তে সড়কটি সচল করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার এসপি এস এম রশিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উপজেলার প্রতিটি পয়েন্ট পুলিশে মোতায়েন রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।