চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক : মৃত্যুর মিছিল থামবে কখন

1

ড. সুমন দে

দিনকে দিন সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের প্রাণহানি। অপ্রশস্ত রাস্তা, ট্রাফিক আইন না মানা ও অদক্ষ গাড়িচালক মূলত এর পিছনে দায়ী বলে অনেকেরই অভিমত। বিআরটিএ- এর তথ্যমতে, গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছর সারাদেশে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৩.৯৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার বেড়েছে ৩০ শতাংশ। শুধুমাত্র চলতি বছর মার্চে সারাদেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪০ জনÑ যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁিড়য়েছে। বেসরকারি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বিগত এক বছর চার মাসে এই চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারায়। এর মধ্যে কাপ্তাই সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে মারা গেছেন ২১ জন।
প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনা তো লেগেই থাকে এই সড়কে। গত ২২শে এপ্রিল সোমবার এ সড়কের রাঙ্গুনিয়া অংশে শাহ আমানত সার্ভিসের বেপরোয়া গতির একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থী। একজন শিক্ষার্থী আহত হয়। একজন সন্তানকে প্রকৌশলী করে গড়ে তোলার পিছনে একটি পরিবারকে কী পরিমান শ্রম ও মূল্য দিতে হয় তা সহজে অনুমেয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেই পরিবারগুলোর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। চুয়েট পরিবারের একজন হিসাবে সংগঠিত দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত, বেদনাবিধুর ও ব্যথিত। সংশ্লিষ্ট দুই শোকসন্ত্রপ্ত পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
এ সড়কের পাশে অনেকগুলো নামীদামী প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও হাসপাতাল থাকলেও অপ্রশস্ত রাস্তা ও বিপজ্জনক বাঁক থাকায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলরত যাত্রীসাধারনকে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচলরত দুইটি বাস সার্ভিস (শাহ আমানত ও এবি ট্রাভেলস) ছাড়াও কয়েকশ’ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করেÑ যাদের বেশীরভাগ গাড়ির চালক ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওভারটেক করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায়। এ সড়কে চলাচলরত একজন নিয়মিত যাত্রী হিসাবে আমি সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত থাকি।
বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় এই সড়কে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছি। এই অটো রিকশাগুলোর দাপটে সড়কে নেই কোন শৃঙ্খলা। নিরাপদ সড়ক ও সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য রাস্তা প্রশস্তের পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা যেমন- ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন অভিজ্ঞ ড্রাইভার; লাইসেন্স হালনাগাদ আছে কিনা; গাড়ির ফিটনেস সনদ ও গাড়ির নিবন্ধন আছে কিনা ইত্যাদি। এ মৃত্যুর মিছিলে আর যাতে কোন তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যেতে না হয় সেজন্য চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়