করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়ছেই। মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনাক্তের হারও বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই মাস সংক্রমণ থাকায় অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেনি। এখন আবার নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। তাই এখন থেকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদ আসতে পারে। এছাড়া এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই তরুণ-যুবক।
এদিকে হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সর্বস্তরে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একইভাবে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে বড় বিপদের শঙ্কা করছেন দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম।
গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৮টি ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। এদের হার ২৪ শতাংশ। মোট আক্রান্তের দিক থেকে এ বয়সের মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এর পরে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ২০ শতাংশ। আক্রান্তের ১৯ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।
এছাড়া চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ মহানগরে আর বাকি ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ উপজেলার।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়ে চলছে। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। আর এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা বেশি। এ বয়সীদের আক্রান্ত হার ২৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, হঠাৎ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা সংখ্যায় বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে খারাপ রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই সবস্তরে স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলা জরুরি।
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আটটি ল্যাবে ২ হাজার ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যা ছাড়িয়ে গেল গত ছয় মাসের রেকর্ড। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ হাজার ৮৫৯ জনে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় আটটি ল্যাবে ২ হাজার ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫৯ জন নগরের এবং ২৪ জন বিভিন্ন উপজেলার। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৯ জন করোনা শনাক্ত হয়। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ২৯ জনের শরীওে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে দিনের সর্বোচ্চ ৬৭ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল (আরটিআরএল) ল্যাবে চারজন করোনা শনাক্ত হয়। আর চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে নয়জনের শরীরে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নগরীর বেসরকারি শেভরণ হাসপাতাল ল্যাবে ২৪ জন, ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ২৩ জন এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে আটজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।










