নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমনুল্লাহ বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে আরও বেশি প্রফেশনাল কলেজ দরকার। বর্তমানে চট্টগ্রামে ২২টি প্রফেশনাল কলেজ রয়েছে। সেগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম হলো দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। এত বড় শহরে প্রফেশনাল বিষয়ে ডিগ্রি দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান নেই।’
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম জেলার কলেজসমূহের অধ্যক্ষদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি অধ্যক্ষদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘পট পরিবর্তনের পর অনেকগুলো কমিশন হয়েছে। শিক্ষা কমিশনটা না হওয়ার কারণে শিক্ষকদের যে সমস্যাগুলো আছে তা প্রতিফলিত হয়নি। তবে সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এমপিও নীতিমালা পরিবর্তন হয়ে গেছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার যে নীতিমালা সেটিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের যে বিধিমালা সেটিতেও পরিবর্তন আসছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে আইসিটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। তাই আমরা আইসিটি শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই কক্সবাজারে ইউনিসেফের সহায়তার ট্রেনিং শুরু হবে। আশা করছি, এতে করে আইসিটি শিক্ষকের যে ঘাটতি কমে আসবে। একইসাথে কলেজগুলোতে একটি মিনি আইসিটি ল্যাব তৈরিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সীমিত পরিসরে হাতে-কলমে আইসিটি বিষয়ে শিখতে পারবে।’
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এখানে লেখাপড়া করে। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি সরকারের বার্ষিক বাজেট যেখানে ৭৯৫ টাকা, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর প্রতি সরকারের বাজেট বাৎসরিক ৩ থেকে ৬ টাকা। একইভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষকরা একটি খাতা দেখেন মাত্র ৪০ টাকায়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক একটি খাতা দেখেন ১৬০ টাকায়। ৪০ টাকায় একজন শিক্ষকের কাছ থেকে কি কমিটমেন্ট আদায় করবো?’
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা শিক্ষকের খাতা দেখার ফি বাড়িয়ে ৬০ টাকা করেছি। মাত্র ২ মাসের মধ্যে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছি। আগামীতে আরও দ্রুত সময়ে ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা করছি। অক্সফোর্ডে ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর ফলাফল মাত্র এক মাসে প্রকাশ করে। সেখানে খাতা দেখা হয় মেশিনের মাধ্যমে। শিক্ষকরা খাতার নির্দিষ্ট একটি অংশ দেখেন এবং বাকীটা মেশিন দেখে। আমরা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছি। একই সাথে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রফেশনাল কলেজের শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের আওতায় আনতে চাই।’
তিনি অধ্যক্ষদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার বিশাল একটা অংশ আপনাদের উপর নির্ভর করে। আপনারা কলেজে এমন কিছু কোর্স চালু করেন যেগুলোর সাথে জব মার্কেটের সম্পর্ক আছে। সরকারি চাকরি করলেও নিজ উদ্যোগে একটি প্রফেশনাল কলেজ চালুর উদ্যোগ নেন। আপনার জন্য সে সুযোগ আমরা করে দেব। কলেজে আইন ও হসপিটালিটি ম্যাসেজমেন্ট এর মত বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করান। গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিষয়ে কোর্স চালু করেন। দেশে বছরে ৬০ হাজার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং ৩০ হাজার দার্শনিকের দরকার নেই। আমার জব মার্কেটে লোক দরকার। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা এসব বিষয়গুলোতে একটু গুরুত্ব দেন।’











