চট্টগ্রামে কাল সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

33

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল শনিবার চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। সমাবেশের যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি। তবে এখনো পুলিশের অনুমতি মেলেনি। এদিকে বরিশালে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়াতে চট্টগ্রামে অনুমতির ক্ষেত্রেও কোনো বাধা দেখছেন না দলটির নেতারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বড় সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভাগীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করছে। আমরা আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাবো। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে লালদিঘির পাড়স্থ জেলাপরিষদ চত্বর অথবা কাজীর দেউড়ির মোড়ে কেন্দ্রঘোষিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ চট্টগ্রাম বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি প্রশাসন আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, লালদিঘির মাঠে বন বিভাগের বৃক্ষমেলা চলছে। সেজন্য আমরা সমাবেশ করতে পারছি না।
বাকি যে দু’টি ভেন্যু আমরা নির্ধারণ করেছি, সেগুলো লোক সমাগমের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তারপরও আমরা সেগুলো নির্ধারণ করেছি। আশা করি আমরা অনুমতি পাবো।
শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। তার বিপুল জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকার তাকে গায়ের জোরে কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। জামিন পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অথচ সরকার তার জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে তাকে জামিন পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। সাজানো মিথ্যা মামলার রায়ের পর থেকে বিএনপি সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার বিএনপির এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও যথাযথভাবে পালন করতে দিচ্ছে না। ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও চট্টগ্রামে বিএনপিকে দলীয় কার্যালয়ের বাইরে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। দেশের জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতি এধরনের আচরণ অমানবিক।
তিনি বলেন, দেশের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগ, সংসদ ও প্রশাসন যন্ত্র নিজেদের কব্জায় নিয়ে সরকার দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। দেশে এখন গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুমিল্লার আদালতে বিচারকের সামনে প্রকাশ্যে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আমরা গত ৪ জুলাই সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছি। কয়েকদিন আগে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগমের সঙ্গে দেখা করেছি। কিন্তু তারা এখনো আমাদের সমাবেশের অনুমতির বিষয়টি জানাননি। আশা করছি, পুলিশ আমাদের অনুমতি দিবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবের রহমান শামীম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার ও হারুনুর রশিদ ভিপি, কেন্দ্রীয় সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এমএ হালিম, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।