চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেইফ সিটিতে পরিণত করব

2

চট্টগ্রাম নগরীকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেইফ সিটিতে রূপান্তরে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ লক্ষ্যে গৃহিত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজন করেছেন বর্ষপূতির অনুষ্ঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) মেয়র শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মেয়র।
এসময় নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে মেয়র বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ বছর ধরে বেদখলে থাকা ভ‚মি উদ্ধার করে আগ্রাবাদের সড়ক করে দিয়েছি। আমি নগরীতে প্রায় ৫০টা বড় বড় রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি যে রাস্তাগুলো হলে এই শহরের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ বছর এই ৫০টি বড় বড় রাস্তা আমি আপনাদের উপহার দিব।
নাগরিক সেবাকে সহজ করতে প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ১০টি সেবা নিয়ে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপ্স আগামি ডিসেম্বরে আনবো। অ্যাপ্সটিতে ময়লা পরিষ্কার, নালা পরিষ্কার, রাস্তা সংস্কার, আলোকায়ন, মশা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ ছবি তুলে এই অ্যাপে আপনারা জমা দিতে পারবেন।
নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাফল্য এসেছে জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৩ হাজার টনের বেশি আবর্জনা হয়। এর মধ্যে ২২০০ মেট্রিক টন আমরা কালেকশন করছি। বাকি ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন আমরা কালেকশন করতে পারছি না। কি কারণে পারছিনা এটা হয়তোবা আপনাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন আসে। এই ৯০০ মেট্রিক টন ময়লা দেখবেন কেউ বাসা থেকে জানালা দিয়ে ময়লাটা ফেলে দিচ্ছেন। কেউ ডাস্টবিনে ময়লাটা না দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ময়লাগুলো ফেলে দিচ্ছেন। এ ময়লাগুলো কোথায় যাচ্ছে? সরাসরি নালাতে যাচ্ছে। নালা থেকে খালে, খাল থেকে পরে কর্ণফুলি নদী, হালদা নদী দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আমি ডোর টু ডোর প্রকল্পটি চালু করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে আমরা আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে কোরিয়ান একটি কোম্পানির সাথে ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করে দিয়েছি হালিশহরে। হয়তোবা দুই-তিন মাস পরে বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম বিনামূল্যে করে দেব। একটা পয়সাও আপনাদের আর দিতে হবে না। এটা আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি। এক-দেড় বছর পরে গিয়ে আমরা যখন ইনকাম করব উল্টা ময়লা নেওয়ার জন্য আপনাদেরকে আমরা টাকা দিব প্রতি বাসায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে না পারলে জলাবদ্ধতা সমস্যার কোনোদিনই সমাধান হবে না। আমাদের বর্জ্য থেকে গ্রীন এনার্জি উৎপাদন করব।
রাজস্ব আহরণ সম্পর্কে মেয়র বলেন, অতীতে যেসব নাগরিকের রাজস্ব অধিক হারে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলো আমি রিভিউ বোর্ড করে যাচাই করে সঠিক পরিমাণে করে দিচ্ছি। তবে, কমার্শিয়াল হোল্ডিং ট্যাক্স যাতে কেউ ফাঁকি দিতে না পারে সে ব্যাপারে আমি কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এজন্য একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মও চালু করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার আমি নিশ্চিত করব।
অনুষ্ঠানে এআই হেলথ কেয়ার সিস্টেমের উদ্বোধন করেন মেয়র যেটি ব্যবহার করে নাগরিকদের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন ডাটা সংরক্ষণ ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। মেয়র অনুষ্ঠানে সরাসরি নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মেয়রের এক বছরের কার্যক্রমের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও উন্নয়ন প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী। চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজনে আরও অংশ নেন চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি মনোয়ারা বেগম, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক আমীর শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহব্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম জেলা অ্যাবের সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শামসুল হক হায়দারী, সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি