চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমির নিয়ে বিরোধে ভাতিজার কিল-ঘুষিতে মো. কালু শাহ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের পুলেরছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কালু শাহ কাকারার শাহ ওমরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মৃত মকবুল আলীর ছেলে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাস্টার আলী আহমদ (৬৭)। তিনি কালু শাহ’র ভাই সুরত আফজালের ছেলে।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ভাতিজা আলী আহমদকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা। সকাল সাড়ে ১০ টায় দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অবরুদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা তার উপর হামলা চালায়। এ সময় আলী আহমদ ছাড়াও ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। চকরিয়া থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কালু শাহ’র মেয়ে জয়নাব আরা বেগম বলেন, কাকারার পুলের ছড়ায় ৩ কানি জমি নিয়ে আলী আহমদের সাথে আমার বাবার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে ওই জমির বর্গাচাষীকে আলী আহমদ চাষাবাদে বাঁধা দেন। বিষয়টি জানার পর আমার বাবা ঘটনাস্থলে যান। এই সময় আলী আহমদের সাথে আমার বাবার কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আলী আহমদ উত্তেজিত হয়ে আমার বাবাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় ঢলে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় আমার বাবাকে উদ্ধার করে চকরিয়া পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কালু শাহ’র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আলী আহমদের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। থানায় নেওয়ার পথে উত্তেজিত জনতা আলী আহমদকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনী দেয়। এ সময় আলী আহমদ ও পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। গণপিটুনীতে আহত আলী আহমদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
চকরিয়া থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য কালু শাহর মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত আলী আহমদকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।










