চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুরে এএমবি-১, এএমবি-২, এএমবি-৩ নামে তিনটি পরিবেশবান্ধব ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনের একটি টিম।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক জমির উদ্দিন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে অভিযানে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ওই তিন ইটভাটার প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মালিকরা।
চকরিয়ার মানিকপুরের অভিযান শেষে টিমের সদস্যরা লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে গেলে বাঁধার মুখে পড়েন। এ সময় কয়েক শ ইটভাটা শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংস না করার দাবি জানিয়ে কাফনের কাপড় পড়ে সড়কে শুইয়ে প্রতিবাদ জানান।
এক পর্যায়ে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পাহাড়ি সড়ক পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন টিমের সদস্যরা। পরে তারা অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে ফিরে আসেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ দুইযুগের বেশি সময় আগে চকরিয়ার মানিকপুর ও লামার ফাইতং ইউনিয়নে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা হয় প্রায় ৩০টি ইটভাটা। এসবের মধ্যে চকরিয়ার মানিকপুরে ৫টি ও লামার ফাইতং ইউনিয়নে প্রায় ২৫ টি ইটভাটায়। এসবে ২০ হাজারের অধিক শ্রমিক দীর্ঘ দুইযুগ ধরে শ্রমের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মানিকপুর ও ফাইতংয়ের ইটভাটার উৎপাদিত ইট দিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়া, মহেশখালীর মানুষের ঘরবাড়ি দোকানপাট তৈরি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন্ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন এই ইটভাটাগুলো উচ্ছেদের নামে ধ্বংস করা হলো। এখন ২০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ইটভাটায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ইটের অভাবে মানুষের ঘরবাড়ি, দোকানপাট নির্মাণ এবং সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে উৎপাদনমুখী শিল্পটি। তাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইট উৎপাদন কাজে জড়িত হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশের ক্ষতিসাধনের অজুহাতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ অভিযান চলছে।
ইটভাটা মালিকদের দাবি, চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সারাদেশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ড্রাম চিমনি ও ১২০ ফুটের ফিক্সড চিমনির বিরদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রবিবার মানিকপুরের তিনটি পরিবেশবান্ধব ঝিকঝাক চিমনির ইটভাটা এবং গতমাসে ফাইতংয়ের তিনটি ঝিকঝাক চিমনির ইটভাটা ভেঙে গুঁঁড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশনা মতে, ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিতে কোন অভিযান করেনি।
এ অবস্থায় মানিকপুর ও ফাইতংয়ের হাজার হাজার ইটভাটা শ্রমিকরা তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংসের বিরুদ্ধে এখন থেকে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে হুশিয়ারি দেন ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা।











