খসড়া চুক্তি নিয়ে তালেবানের সঙ্গে ফের আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

51

খসড়া চুক্তি নিয়ে তালেবানের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে এ আলোচনা শুরু হয়। এতে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিত্ব করছেন আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদ ও দেশটির কর্মকর্তারা। অন্যদিকে তালেবানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা।শনিবার নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক জালমাই খলিলজাদ জানিয়েছেন, আলোচনা ধীর গতিতে এগুলেও আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক উন্নতি হচ্ছে। জালমাই খলিলজাদ জানান, উভয় পক্ষই চারটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার, আল কায়েদা এবং জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তালেবানের সহযোগিতা, একটি অস্ত্রবিরতি এবং সরকারসহ আফগানিস্তানের বিবদমান সবকটি পক্ষকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা। কাতারে তালেবান সূত্রগুলো বিবিসি’কে জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত রয়েছে। এ দফার আলোচনায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে। টানা ১৭ বছরের আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে তালেবান। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখলের পর থেকে তারা এখন দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। তালেবানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, আমরা দখলদারিত্ব অবসানের আহব্বান জানিয়েছি। তাদের দিক থেকে বন্দি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগান শান্তি প্রচেষ্টায় সমর্থনের ঘোষণা দেয় আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। দেশটিতে অন্তত দুই দফায় তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কাতারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিদূত জালমাই খলিলজাদ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, রাজনৈতিক উপায়ে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিঠি লিখে আফগান যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের সাহায্য চাওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।