কোরবানি হাটে জাল নোটের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে

3

মোহাম্মদ শাহজাহান

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরই নোট জালকারীদের তৎপরতা দেখা যায়। এ তৎপরতা দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কমিটিও কাজ করে থাকে।
এবারের কোরবানি ঈদে পশু যেমন আসছে তেমনি বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। এ সুযোগে জাল নোট চক্রের সদস্যরা অন্যান্য বছরের চেয়ে কোরবানীর পশুর হাটে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর দেখা যায় জাল নোট ছাপা ও বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার চক্র বা তাদের সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা বারবার জামিনে বেরিয়ে একই কারবারে জড়িয়ে পড়ে।
এজন্য কোরবানি হাটে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ে যেন সর্বোচ্চ সতর্কতার সংগে টাকা লেনদেন করে সে ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে এরা টাকার বান্ডিলের প্রথম এবং শেষ কয়েকটি নোট অরিজিনাল রেখে এরপর কৌশলে ভেতরে জাল নোট দিয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে সতর্কতার বিকল্প নেই। তবে অবশ্যই বিক্রেতাকে খেয়াল রাখতে হবে, জাল নোট নিয়ে যদি কোনো প্রকার সন্দেহ হয় তাহলে গরুর হাটে অবস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা ব্যাংকের বুথে এসে সঠিকতা যাচাই করতে হবে।
কারণ জাল নোট কারবারীরা কোরবানির ঈদ এলেই পশুর হাট ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠে। অনেক সময় বিক্রেতারা জাল নোটের সাথে প্রকৃত নোটের পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিপাকে পড়েন। আবার এ ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতায়ও পড়তে হয়। এজন্য প্রতিবারের মতো জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে নোট যাচাইয়ের সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে থাকেন বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত আমাদের দেশে জাল নোটের বিরুদ্ধে শক্ত কোন আইন না থাকায় এর বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। তাছাড়া এ দেশে দেখা যায় জাল নোটের সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা সহজেই ছাড়া পায় এবং একই চক্রে পুনরায় জড়িয়ে পড়ে। এজন্য জাল নোট বিস্তার রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাল নোট যার হাতে থাকে শুধু তাকেই বিচারের আওতায় আনা হয়। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এই বৈষম্য দূর করতে হবে। সুতরাং জাল নোটের ব্যবহার হচ্ছে অনেক বড় অপরাধ এবং প্রতারণা। যার ফলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বছর জুড়ে অপরাধী চক্র জাল নোট তৈরি ও বিপণনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করলেও কোরবানি ঈদের সময় এর তীব্রতা বহুগুণে বেড়ে যায়। এর ফলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রতি বছর জাল নোট রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে মাঠে নামতে হয়। বড় ধরনের হাটবাজারগুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের কাজ দেশে বছরের পর ধরে চলে আসছে। এক্ষেত্রে আইনের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা দূর করে জাল নোটের বিরুদ্ধে আরো প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক