কোটা-পেনশন স্কিমের আন্দোলন যৌক্তিক : ফখরুল

4

পূর্বদেশ ডেস্ক

হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসিয়ে বাসায় ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়ার ‘জীবন হুমকির মুখে’ বেলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল সোমবার ভোরে ‘গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ ‘হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপি চেয়ারপারসনকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত¡াবধানে কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। খবর বিডিনিউজের।
দুপুরে হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উনার অনেক অসুখ আছে যা আমরা বার বার জাতির কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকার কোনো কেয়ার করেনি। উনার জীবন হুমকির মুখে। এটা এরা (সরকার) ইনটেনশনালি করছে বলে আমরা মনে করি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন এটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, দেশনেত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। উনার প্রতি যে অন্যায় করা হচ্ছে, চরম অন্যায়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এভাবে আটকে রেখে তাকেমৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
ফখরুল বলেন, আজকে (সোমবার) তিনি হাসপাতালে এসেছেন, হঠাৎ হঠাৎ আসতে হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, কয়েকদিন আগেও তাকে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। ক্রমাগত অত্যন্ত জটিল অসুখগুলো তাকে আক্রমণ করছে। আমরা বার বার বলেছি, তার চিকিৎসাটা দরকার বিদেশে মাল্টি ডিসেপ্ল্যানারি চিকিৎসাকেন্দ্রে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে তারা (সরকার) প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে মির্জা ফখরুল এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ম্যাডামকে চব্বিশ ঘণ্টা মনিটর করছেন চিকিৎসকরা।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্ব বিশেষ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২৩ জুন তার খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে ‘পেসমেকার’ বসানো হয়।
২২ জুন গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ‘হঠা অসুস্থ’ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। পরদিনই তার হৃদপিন্ডে পেসমেকার বসানো বসানো হয়। গত ২ জুলাই হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এক সপ্তাহের মাথায় আবার তাকে হাসপাতালে যেতে হলো।
এর আগে গতবছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ এনে তার লিভারে অস্ত্রোপচার করা হয়।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, আথ্ররাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন
এদিকে সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং চাকরির কোটার বিরোধিতায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে বলে মন্ত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কখনই এই ধরনের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এসব আন্দোলন তাদের নিজস্ব, প্রফেশনাল জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা করছেন, ছাত্ররা করছেন, ছাত্রীরা করছেন। আমরা এখানে ইন্ধন দিতে যাব, কোনো প্রশ্নই উঠে না।
তবে এসব আন্দোলনেকে বিএনপি ‘যৌক্তিক’ মনে করে জানিয়ে তিনি বলেন, যেটা সত্যি, সেটা সত্যি বলব। যেটা যৌক্তিক, সেটা যৌক্তিক বলব, এটা আমরা সব সময় বলছি।
চলমান দুই আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাকে আমরা দুইভাবে দেখি। একটা হচ্ছে, দেশে বিপুল সমস্যা আছে, সেটাকে ডাইভার্ট করার জন্যে আন্দোলন তৈরি করা হচ্ছে। কোটাবিরোধী ছাত্রদের দাবিকে আমরা সমর্থন করি, কারণ এটা যৌক্তিক দাবি। এটাকে আমরা অযৌক্তিক বলার কোনো কারণ দেখি না।
৫০ বছর পরেও ৫৬% আপনি কোটা দিয়ে রাখবেন, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এখানে যেটা হচ্ছে মেধার বিকাশ হচ্ছে না, মেধাবীদের এডমিনিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জায়গাগুলোতে নিতে পারছেন না। একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।
শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। আপনি এর আগে একরকম কথা বলেছেন, এখন করছেন আরেক রকম। আপনি বলেছেন যে, যারা পেনশন পায় তাদের কোনো দরকার নেই। যারা বাইরে পেনশন পায় তাদেরকে নিয়ে আসতে পারে, ঐচ্ছিক এখন কম্পালসরি করে দিয়েছেন।
কারণ হচ্ছে সরকারের আর্থিক খাতে যে দুরাবস্থা, তাদের টাকা-পয়সা সব শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মানি নিয়ে আসছে। বিভিন্ন অটোনোমাস বডি আছে, এদের মধ্যে অনেকগুলো বডি আছে, যাদের কাছে বহু সারপ্লাস মানি ছিল, সেগুলো নিয়ে নিয়েছে। কোথাও কিছু বাকি রাখছে না, সব নিয়ে ফেলছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এটা বাস্তব কথা। আমরা বার বার বলছি, এই সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সবাই দুর্নীতিবাজ। এত বেশি দুর্নীতি করেছে যে, এখন ডেট ট্র্যাপে পড়ে যাচ্ছে। সেই ফাঁদে পড়ে যাওয়ার কারণে এখন তারা চতুর্দিক থেকে একটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা, আরেকটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা, এভাবে চলছে। রপ্তানি আয় নিয়েও সরকার ভুল তথ্য দিচ্ছে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।
মহানগরের নতুন নেতাদের সাক্ষাৎ : দুপুরে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মহানগর উত্তরের বিএনপির আহŸায়ক সাইফুল আলম নিরব, সদস্য সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের আহŸায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
রোববার বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণসহ বরিশাল, চট্টগ্রাম মহানগরের নতুন আহŸায়ক কমিটি ঘোষণা করে।