কোটাবিরোধীদের এবার একদফা ঘোষণা

8

পূর্বদেশ ডেস্ক

এবার এক দফা দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কাছাকাছি সময়ে সাইন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেত, চানখারপুল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও কারওয়ান বাজার মোড়ও ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। খবর বিডি ও বাংলানিউজের।
চলমান চার দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে এক দফা দাবিতে নামিয়ে ফের সারা দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচির শেষে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। এছাড়া সোমবার (আজ) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ চলবে। বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হবে।
এদিকে, এতদিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বৈষম্য নিরসনের দাবি জানালেও এবার সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটা ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা সংস্কার করতে হবে।
আন্দোলনের সমম্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এবার ১ম ও ২য় শ্রেণিতে নয়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতেও কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাই আমরা। আমাদের বারবার আদালত দেখানো হচ্ছে। আমরা তাদের সংবিধান দেখাচ্ছি।
তিনি বলেন, কোটার বিষয়ে রাজপথ থেকেই ফায়সালা হবে। আলাপের দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা আলোচনা করেছিলাম ২০১৮ সালে। বিনিময়ে আমরা পেয়েছি প্রহসন।
সমম্বয়ক সারজিস আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমাদের ভয় হয়। ১৯৭৫ সালের আগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও বন্ধুরূপে মোশতাক ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পাশেও কিছু মোশতাক রয়েছে, যারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন তার কানে পৌঁছে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ছাত্র সমাজ প্রধানমন্ত্রীর দিকে চেয়ে আছে। সংবিধান অনুসারে যৌক্তিক সংস্কার করুন। নাতি-পুতি কোটা আমরা মানি না। একটি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ হতে পারে না।
সমম্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কোটা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়তে চাই। এটা একইসাথে কৃষক-শ্রমিকের আন্দোলন।
এর আগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে দুপুর ২টার দিকে নীলক্ষেত থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিকাল তিনটার দিকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন ইডেন মহিলা কলেজ ও গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা।
এরপর ৩টা ৫০ মিনিটে শাহবাগ অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামন থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে টিএসসি হয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।
ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে চানখারপুল মোড় অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল, শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগারগাঁওয়েও রাস্তায় নামের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে রাজধানীর এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সময় গড়ানোর সাথে সাথে পুরো রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিকালের এই কর্মসূচির কারণে অফিস ফেরত মানুষকে পড়েতে হয় চরম ভোগান্তিতে। ব্যস্ত কর্মদিবসে রাস্তা আটকে এমন কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে রাতে শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলা ব্লকেডে শিক্ষার্থীরা অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। আমরা কোটা সংস্কার করেই ঘরে ফিরব, কোনো আপস হবে না।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে গতকাল পঞ্চম দিনের মতো সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং ছাত্র ধর্মঘটও পালন করছেন কোটাবিরোধীরা।