কাপ্তাইয়ের পাহাড়ে ঝুলছে রসালো লিচু

7

মো. নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই

কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন লিচুবাগানে গেলেই দেখা যাবে গাছে গাছে ঝুলছে লিচু। মিষ্টি আর রসালো স্বাদের বৈশিষ্ট নিয়ে ভিন্ন জাতের লিচুর সমাহার রয়েছে বাগানগুলোতে। বিভিন্ন জাতের মধ্যে বোম্বাই, কালিপুরী, চায়না-থ্রি ও দেশি লিচুতে ছেয়ে গেছে গাছের ডালপালা।
সম্প্রতি কাপ্তাই উপজেলাধীন ওয়াজ্ঞা ইউনিয়নের সাফছড়ি, আগুনিয়াছড়া, বটতল, পাগলী পাড়া ও কাপ্তাই ইউনিয়নের কাপ্তাই-আসামবস্তী সড়কের বেশ কিছু এলাকায় অবস্থিত লিচুবাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে লিচু। অধিকাংশ গাছেই লিচু মোটামুটি পরিপক্ক হয়েছে। তবে এখনো কিছু গাছের লিচু কাঁচা রয়েছে। চাষীরা আশা করছেন, অল্প সময়ে সেসব লিচু পরিপক্ক হয়ে লাল রং ধারণ করবে। স্থানীয় বাজারে প্রকার ভেদে প্রতি ১শ লিচু ৬০, ৮০, ১০০, ১৫০ ও ২০০টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা কৃষিনির্ভর। চাষীরা পাহাড়ে বিভিন্ন মৌসুমী ফল উৎপাদন করে দিনদিন সফলতা পাচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমী ফল এই লিচু স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। তাছাড়া ভিটামিন সি যুক্ত মৌসুমী এই ফলটি কমবেশি সবার কাছে প্রিয়। কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা এই মৌসুমী ফল এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রয় করে থাকেন। ফলে কেবল মৌসুমী ফলের চাষাবাদ করেই তারা স্বাবলম্বী হচ্ছে। তবে এবছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বেশ কিছু লিচুবাগানে অন্যান্য বারের তুলনায় ফলন কম হয়েছে। বিশেষ করে পানির অভাবে লিচু গাছের পরিচর্যা করতে কষ্ট হয়েছে চাষীদের।
এ বিষয়ে কাপ্তাই ওয়াজ্ঞা ইউনিয়নের কারবারী ও লিচু বাগানের মালিক সুনিল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, প্রতিবছরই পাহাড়ে লিচুর ভাল ফলন হয়। এ বছরও হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি ও পানির অভাবে বেশ কিছু লিচু বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিক সময়ে বৃষ্টি হলে লিচুর ফলন আরও ভাল হতো।
অনেক বছর ধরে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের চাষ করে আসা চাষী সুবিমল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, লিচুর ফলন ভাল হলেও অন্য বছরের তুলনায় কম। পানির অভাবে সঠিক সময়ে লিচুর পরিচর্যা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নিজস্ব বাগানে লিচুর যা ফলন হয়েছে তাতেই তিনি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
চাষী সুনয়ন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কাপ্তাইয়ে উৎপাদিত এসব লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে লিচু সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বতর্মানে বৃষ্টিপাত অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় কম হওয়ায় অনেক লিচু গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ওয়াজ্ঞা পাগলীমুখ পাড়ার চাষী তরুণ তঞ্চাঙ্গ্যা জানান, লিচুর ভাল ফলন হলেও পানির সমস্যায় ভুগছেন তারা। বিশেষ করে পাহাড়ের উঁচুতে গড়ে ওঠা বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি দিতে পারলে ফলন আরও ভাল পাওয়া যেত। এবছর তার বাগানের বেশ কয়েকটি গাছে লিচুর ভাল ফলন পাওয়া গেলেও কিছু গাছে তেমন ফলন আসেনি। তিনি জানান, পাহাড়ের কৃষকদের যদি সরকার কর্তৃক উন্নত মানের কিছু কৃষি সরঞ্জাম দেওয়া হয় তাহলে তাদের অনেক উপকার হবে।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকেরা অনেক পরিশ্রমী। ভাল ফলন পাওয়ার জন্য তারা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরাও কৃষি বিভাগ থেকে সবসময় চেষ্টা করি, তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। তবে এবছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর ফলন গত বছরের তুলনায় কম হয়েছে। এবছর কাপ্তাই উপজেলায় প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশিয় জাতের পাশাপাশি চায়না-থ্রি সহ বিভিন্ন জাতের লিচু রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ে পানির যে সমস্যা এটি মোকাবেলা করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ে ফলের একটি বিরাট ভান্ডার তৈরি হবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন প্রান্তিক চাষীদের মৌসুমী ফল চাষে উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। যার ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা সহযোগিতাও পাচ্ছে, সে সাথে লাভবানও হচ্ছে।