নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ৭টি পরিবেশবাদী সংগঠন। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছে সংগঠনগুলো। গতকাল রবিবার নগরীর চেরাগী মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও ভোরের আলো।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, দখলদারদের পক্ষে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর আইনজীবীরা মামলা লড়ার কারণে কর্ণফুলী দখল উচ্ছেদ ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ১৫ বছর দীর্ঘতর হয়েছে। মামলার রায় দখলদারদের বিপক্ষে গেলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্লিপ্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর্জা ইসমাইল বলেন, কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। যারা ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে দেশের সম্পদ লুট করছে বা সহযোগিতা করছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
এ সময় পরিবেশকর্মীরা বলেন, চট্টগ্রাম নগরের ৭০ লাখ মানুষের একমাত্র সুপেয় পানির উৎস কর্ণফুলী নদী। এর দুইপাশ দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা ও বসতি উচ্ছেদ করা এখন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ। কর্ণফুলী নদী বাঁচলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। অর্থনীতির হৃদপিন্ড এই কর্ণফুলী দখলের প্রতিযোগিতায় থাকা ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদে এখন আর আইনি বাধা নেই। কাজেই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কোন ধরনের গড়িমসি করলেই চট্টগ্রামবাসী জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ও পরিবেশ সংগঠক মারুফ হাসান রুমি, ভোরের আলো’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাংবাদিক মো. শফিকুল ইসলাম খান, গ্রিন ফিংগার্স কো ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান, বেলা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সংকেত দেব, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এ পেয়ার আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার রেজাউল করিম রাজা প্রমুখ।











