মুহাম্মদ আয়াজ, কর্ণফুলী
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকার হাক্কানী কর্পোরেশন নামে একটি ফিড কারখানা থেকে আসা পঁচা-দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রশাসন একাধিক বার জরিমানা আদায় করলেও থামানো যাচ্ছে না এই কারখানাটিকে। এ নিয়ে বারবার অভিযোগের পরও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরব ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে প্রাণী খাদ্য উৎপাদন করছে কারখানাটি। কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রতিনিয়তই উৎপাদন কার্যক্রম চালু রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন বিকাল সাড়ে চারটার পর থেকে শুরু করে শেষ রাত অবধি চলে উৎপাদন কার্যক্রম। এতে উৎপাদিত পণ্যের দুর্গন্ধ সড়কের পথচারীসহ আশপাশের মানুষের কাছে অনায়াসে ভেসে আসে। দুর্গন্ধের অত্যাচার দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করে আসছে স্থানীয়রা।
কারখানাটির পাশ ঘেঁষে অবস্থিত ৩০ বছরের পুরাতন এতিমখানা ও মাদ্রাসার শত-শত কোরআনে হাফেজ শিশুরা, টোল প্রদানে অপেক্ষারত পরিবহনের চালক ও যাত্রী, ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ, মসজিদের মুসল্লিগণ, কিউর পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শাহ আমানত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা নিতে আসা রোগীসহ সাধারণ পথচারীসহ চরপাথরঘাটা ইউপির অন্তত ১০ হাজার মানুষ অতিষ্ঠ।
জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম ত্রুটি তুলে ধরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার জরিমানা ও নির্দেশনা দিলেও তা মানছেন না কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ দূষণ করে তাদের উৎপাদন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন বছর দেড়েক আগেও কারখানাটি সিলগালা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি- এমনটাই জানান স্থানীয়রা।
বছরের পর বছর হাক্কানী কর্পোরেশন লি. এর কারখানা থেকে আসা দুর্গন্ধ বাতাসের সাথে মিশে মারাত্মকভাবে পরিবেশকে দূষণ করছে। ফলে শিশু এবং বয়স্কদের অনেকের এজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেও উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানাটিকে জরিমানা করেছে। প্রায় চার বছর আগে খাদ্য কারখানাটি উপজেলা প্রশাসন থেকে সিলগালা করা হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে ও কাদের ম্যানেজ করে তারা পুনরায় কারখানাটি চালু করেছে, তা কারও জানা নেই। কারখানার আশেপাশের পরিবেশ অত্যন্ত বিপদজনক। বিষয়টি তাদের কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। গত কিছুদিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশনা দিয়ে গেলেও তা তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম।
এতে পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এছাড়া খাদ্য কারখানার থেকে নিঃসৃত তেল ছড়িয়ে পড়ছে বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গায়। এই তেল কি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে অসংখ্য প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে হক্কানি কর্পোরেশন লিমিটেড’র ইনচার্জ শাকিল আহমেদ পূর্বদেশকে জানান, আমরা নিয়ম মেনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিকালে ও রাতে পঁচা-দুর্গন্ধের বিষয়টি জানতে চাইলে সঠিক কোন উত্তর জানাতে পারেননি তিনি।
কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র জানান, পঁচা-দুর্গন্ধের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে কিছুদিন আগেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এখন যদি আবারও জনগণের ভোগান্তি হয়, তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে হাক্কানী কর্পোরেশন’র বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের দায়ে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। দুই বছর তাদের লাইসেন্স বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল নির্দেশনা মানার পর আমরা তাদেরকে আবারও লাইসেন্সের নবায়ন দিই। এখন যদি নতুন করে পঁচা-দুর্গন্ধ ছড়ায় মানুষ অভিযোগ দিলে আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।










