কর্ণফুলীতে দুই পক্ষের মারামারি ঘরে ভাঙচুর

75

‘কর্ণফুলী টিভি’ নামক কথিত একটি অনলাইন চ্যানেলে (ইউটিউব-ফেসবুক) প্রতিবেদন প্রচার করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় বেলা সোয়া ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ইলিয়াছ প্রকাশ রবিন (৩৪) নামের এক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রূত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, শিকলবাহার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কলেজ বাজার এলাকায় ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গ্রামের লোকজন এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।
এদিকে কথিত কর্ণফুলী টিভিতে মো. ইয়াকুকের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রচার করে। প্রতিবেদনের প্রতিবাদে গতকাল সকাল ১১ টায় কলেজ বাজার এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়। এরপর কলেজবাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এছাড়া একদল লোক আবদুর রহিম, আলী মুন্সি ও এয়াকুবের ঘরে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওসমান জানান, ইয়াকুব মাছের প্রজেক্টের নামে পুকুরের মাঝখানে একটি ঘরে ইয়াবার ব্যবসা করেন। এছাড়া তিনি আরও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছেন। এলাকার লোকজন এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এ কারণে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মো. এয়াকুব জানান, ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কর্ণফুলী টিভি নামে একটি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচার হয়। এ কারণে আমি প্রতিবাদ করি।
একবার মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেপ্তার করলেও প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে তার তালাবদ্ধ ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, ইয়াকুবের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। এয়াকুব শুক্রবার বহিরাগত লোকজন দিয়ে তার পক্ষে মানববন্ধন করে। এরপর কলেজ বাজারে প্রথমে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এদিকে বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের বিষয়ে এক পক্ষ, অপর পক্ষকে দায়ী করছে। ঘরে হামলার ঘটনায় এয়াকুব জড়িত কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজগুলো দেখা হচ্ছে। এরপর দায়ীকে শনাক্ত করা হবে জানা গেছে।