পূর্বদেশ ডেস্ক
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের পথে বহু প্রতীক্ষার পর আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়ার বিআইডবিøউটিএ ঘাট থেকে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’, ‘এমবি বার আউলিয়া’ ও ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’ জাহাজে করে এক হাজার ১৭৪ জন পর্যটক দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন। খবর বিডিনিউজের।
সরকারি নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়নে ঘাটে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যাত্রীদের যাচাই-বাছাই করে জাহাজে ওঠান।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, দীর্ঘদিন রুট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুই মাস ব্যবসা চলবে। রাত্রিযাপনের সুযোগ আরও কিছু দিন মিললে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে যেত।
সকালে যাত্রা শুরুর সময় পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাস সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি রয়েছে। টিকিট ও ট্রাভেল পাস অনলাইনে নিতে হবে। ঘাটে কিউআর কোড স্ক্যান করে নিশ্চিত করা হচ্ছে যেন নির্ধারিত সংখ্যার বেশি কেউ প্রবেশ না করে। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে প্রচার চলছে এবং পর্যটকদের পরিবেশবান্ধব অ্যালুমিনিয়াম বোতল সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে ভলান্টিয়ার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, যাত্রীর নিরাপত্তা ও নিয়ম মানা নিশ্চিত করতে ঘাটে, প্রতিটি জাহাজে এবং দ্বীপে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, ঘাটে টিকিট যাচাইয়ের সময় কিউআর কোডবিহীন তিনটি টিকিট বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় জাহাজ ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী জানান, ১ হাজার ৮০০ টাকা করে তিন যাত্রীকে ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, কেউই কিউআর কোড ছাড়া টিকিট বিক্রি করতে পারবেন না। স্থানীয়রা এনআইডি দেখিয়ে টিকিট নিতে পারবেন, অন্যদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক। প্রথমদিন বলে গ্রেপ্তার না করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটকদের উচ্ছ্বাস : প্রথম যাত্রার দিন পর্যটকদের মধ্যে ছিল উচ্ছ¡াস। প্রথমবার সেন্টমার্টিনে যাওয়া মোকাম্মেল হোসেন বলেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে যেতে পেরে ভালো লাগছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আবছার উদ্দিন মনে করেন, সেন্টমার্টিন রক্ষায় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তবে তার মত, দুই মাস সময় খুব কম, এটা আরও বাড়ানো যেত।
কঠোর নির্দেশনা : পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, কঠোর নজরদারিতে দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। নুনিয়ারছড়া ও সেন্ট মার্টিন জেটি ঘাটে তল্লাশির ব্যবস্থাও রয়েছে।
২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করে। এর মধ্যে রয়েছে- অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলবে না, অনলাইন টিকিট বাধ্যতামূলক, কিউআর কোডবিহীন টিকিট নকল গণ্য, নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ- ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুমোদিত, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, মোটরচালিত যান চলাচল বন্ধ, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ, আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার নয় মাস সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
আরও চার জাহাজ প্রস্তুত : সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, আরও চারটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত। প্রশাসন অনুমতি দিলে ধাপে ধাপে সেগুলোও রুটে নামবে। চলতি মৌসুমে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।










