কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল-চৌফলদন্ডী ব্রীজের পাশে ভারুয়াখালী খালে নোঙর করা একটি বোট থেকে ৭ বস্তা ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সাত বস্তায় ১৪ লাখ ইয়াবা পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে ইয়াবার বৃহৎ চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। এ ইয়াবা চালানের সাথে ট্রলার মালিকসহ দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ট্রলার মালিক কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছরা এলাকার মোজাফফরের ছেলে মোহাম্মদ বাবু (৫৫) এবং একই এলাকার রাজু মেম্বারের ছেলে জহিরুল ইসলাম ফারুক (৩৭)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, গোপন সংবাদে খবর আসে চৌফলদন্ডী ব্রীজ এলাকায় ভারুয়াখালী খালে একটি ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান রয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের কয়েকটি দলের সমন্বয়ে চালানো এই অভিযানে একটি কাঠের বোট থেকে ইয়াবা ভর্তি সাতটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বস্তায় সর্বমোট ১৪ লাখ ইয়াবা পাওয়া গেছে।
একইদিন বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে আটক জহিরুল ইসলাম ফারুকের বাড়ি থেকে দুই বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুকের নুনিয়ারছড়ার বাড়ি থেকে এসব টাকা উদ্ধার করেন পুলিশ। আটক জহিরুল ইসলাম ফারুকের দেয়া স্বীকারোক্তি মতো এই অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান।
তিনি জানান, ১৪ লাখ ইয়াবাসহ আটক হওয়া জহিরুল ইসলাম ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাড়িতে বিপুল ইয়াবা রাখার কথা স্বীকার করেন তিনি। তার দেয়া তথ্য মতে, অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে দুটি বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়। গণনা করে দুই বস্তায় এক কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। ইয়াবা এবং টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে উখিয়ার ইনানীর রেজুরখাল মোহনা থেকে ইয়াবার বিশাল এ চালানটি তারা গ্রহণ করে চৌফলদন্ডী ঘাটে এনে খালাসের অপেক্ষা করছিল। চক্রের দুইজনকে যেহেতু হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে তাদের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ব্যাপারেও খোঁজ পাওয়া যাবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।










