কক্সবাজারে পর্যটকদের নির্ভরতার প্রতীক ট্যুরিস্ট পুলিশ

2

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার

কক্সবাজারে পর্যটকদের নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তাদের কার্যক্রম অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি ও হোটেল মোটেল জোন নিরাপদ রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা। এর সুফলও পাচ্ছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
গত ফেব্রæয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পর্যটকদের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, পরিবেশ রক্ষা ও সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছেন। যা কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। পর্যটকদের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি। তবে আতংক তৈরি হয়েছে চোর-ছিনতাইকারী, প্রতারক ও গলাকাটা অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
আপেল মাহমুদ পর্যটকের ছিনতাই হওয়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা ও আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। একইভাবে রাশিয়া থেকে আসা পর্যটক মনিকা কবিরের হারানো হ্যান্ডব্যাগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। পর্যটক হয়রানির অভিযোগে ১৭টি ক্যামেরা জব্দ এবং চুরি হওয়া ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধারের ঘটনাও ট্যুরিস্ট পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার উজ্জ্বল উদাহরণ।
পরিবেশ রক্ষায়ও তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। মারমেইড বিচ রিসোর্টের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সৈকতে নিয়মিত বিচ ক্লিনিং কর্মসূচি, ময়লা ফেলতে বিশেষ ঝুড়ি স্থাপনসহ পরিবেশবান্ধব সৈকত গঠনে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতারণামূলক অপহরণের ঘটনা উদ্ঘাটন, প্রেমিক যুগল উদ্ধার, পর্যটকের গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ছড়ানোয় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার, লাইটহাউস এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে অভিযানসহ একের পর এক পদক্ষেপে পর্যটকদের আস্থা বাড়ছে। লাইটহাউস এলাকায় অবৈধ সুড়ঙ্গপথ চিহ্নিত করে ১৩ নারী-পুরুষ আটক করাও ছিল তাঁর আলোচিত অভিযানগুলোর একটি। পর্যটকদের চলাচলের পথ বন্ধ করে অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও তিনি নিয়মিত অভিযান করে থাকেন।
তাঁর উদ্যোগে সৈকতে পঁচা মাছ (ফিসফ্রাই) বিক্রিরোধে অভিযান, বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অনিয়মবিরোধী ব্যবস্থা, টিকটক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান, পর্যটক সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগে সেবার মান দৃশ্যমান হয়েছে।
জিনিয়া হোটেল ও কক্স ভ্যালি হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, হারানো অন্ধ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, পর্যটকদের মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার, নারী অপহরণ মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার, ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক, তরুণ-তরুণী উদ্ধারসহ নানা কার্যক্রম কক্সবাজারে নিরাপত্তার চিত্র বদলে দিয়েছে।
এক বছরে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাফল্যের তালিকাও দীর্ঘ। এ সময় ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে ৩০ জন, ভাসমান অপরাধী ৩৬ জন, নিবন্ধিত হয়েছে ১৭৫ সিআর মামলা। হারানো ১৫০ শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ২৬টি চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার, ৯ জন উত্যক্তকারী গ্রেপ্তার, ১৯ মৃতদেহ উদ্ধার ও ১৫ জীবিত ব্যক্তিকে পরিবারের কাছে ফেরানো হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটক হয়রানির দিন শেষ। পর্যটকদের সাথে কেউ নয়-ছয় করলে, বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ভ্রমণ শেষে নির্বিঘ্নে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের হয়রানির চেষ্টা করলে বা পর্যটন এলাকায় অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে কেউ পার পাবে না। ছোট-বড় যেকোনো অনৈতিক কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করা হবে। পর্যটন নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের এই ধারাবাহিক সাফল্য কক্সবাজারকে একটি নিরাপদ, পরিবারবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে অভিমত পর্যটক ও স্থানীয়দের।