কক্সবাজারের সাবেক ডিসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

3

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলার জন্য আবেদন করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’। আবেদনটি আদালত গ্রহণ করলেও কোন সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আবদুর রহমানের আদালতে ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’র স্বত্বাধিকারী আতিকুল ইসলামের পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবীরা।
বাদী পক্ষের আইনজীবী জানান, বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদানের কথা জানানো হয়েছে।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক-বন্দর ও পরিবহন এ.কে.এম আরিফ উদ্দীন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং বিভাগ) মো. রেজাউর রশিদ খন্দকার, কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিভীষণ কান্তি দাস, বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী প্রকৌশলী (ড্রেজিং বিভাগ) মোহাম্মদ সাফি ইসলাম, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রজ্ঞান চাকমা, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাবেক ডেপুটি কালেক্টর (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান, গার্ডিয়ান এন্টারপ্রাইজের প্রপ্রাইটর মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন এবং ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির অপরাপর সদস্যরা।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের অধীনে কক্সবাজার জেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ও নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ৬ নম্বর ঘাট এলাকার নাব্য উন্নয়নের লক্ষ্যে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃক ড্রেজিংয়ের নিমিত্তে সরাসরি উত্তোলিত ৫০ লাখ ঘনফুট ড্রেজিংকৃত ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতা/প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রয় করার জন্য এক বিজ্ঞপ্তি/নোটিশ স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞপ্তির আলোকে ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’র দরপত্র ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দাখিল করে। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দাখিল করা হয় এবং প্রস্তাবিত দরের সঙ্গে ৫% জামানতের টাকা পে-অর্ডারমূলে (ফেরতযোগ্য) ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা,
যার পে-অর্ডার নং : ৪৩৮৮৯৮২; এনসিসি ব্যাংক পিএলসি কক্সবাজার শাখার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র অনুক‚লে প্রদান করা হয়। ওই মতে একইদিন বিকাল ৪ টার পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে দরদাতাদের উপস্থিতিতে দাখিলকৃত দরপত্র অর্থাৎ নিলাম উন্মুক্ত করা হয়। উন্মুক্ত নিলামে মোট ১২ জন নিলাম দর প্রস্তাবকারী দরপত্র দাখিল করেন। এতে ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’র সর্বোচ্চ প্রস্তাব ছিল প্রতি ঘনফুট ৫.৩৭ টাকা হারে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রস্তাবকারীর প্রস্তাব ছিল প্রতি ঘনফুট ৪.৫০ টাকা হারে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু অভিযুক্তরা ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’ সর্বোচ্চ নিলাম ডাককারী হিসেবে কার্যাদেশ পাওয়ার নিশ্চিত দেখিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ৪০ লাখ টাকা নগদে ঘুষের শর্ত জুড়ে দেন। ব্যর্থতায় অন্যান্য নিলামকারীর মধ্য থেকে পছন্দ মতো যে কাউকে ওই পরিমাণ ঘুষের টাকা নিয়ে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। ‘উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল’ ঘুষ লেনদেনে অস্বীকৃতি জানালে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিলাম প্রস্তাবকারীকে ডাকটি প্রদান করে বলে অভিযোগ আনা হয়।