ওয়াসায় পদোন্নতি-নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

6

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ওয়াসায় পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও সংস্থাটির কার্যক্রম পুরনো প্রশাসনের ‘ছকে’ চলছে, এমন অভিযোগ তোলেন ওয়াসার একাধিক কর্মচারী। তাদের দাবি, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, আজও গুরুত্বপূর্ণ সব পদ ও সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।
ওয়াসার কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রতি দুই বছর পরপর আয়োজন করা উচ্চতর সিলেকশন বোর্ড মিটিং এখন নিয়োগ-পদোন্নতির প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সেখানে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। অনেকটা গোপনেই সিলেকশন বোর্ডের মিটিং করে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওয়াসার শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনগুলো নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনও করেছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা এমডির কাছে পদোন্নতির বিষয়ে দাবি জানিয়েছিলাম। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী যারা পদোন্নতি পাবে তাদের দেওয়ার বিষয়ে কথা জানিয়েছেন। দ্রুত পদোন্নতি সম্পন্ন করার কথা আমরা বলেছি। নিয়ম অনুযায়ী যদি সেটা সম্পন্ন করা না হয়, তাহলে তো কেউ মানবে না।
সাবেক এমডি ফজলুল্লাহর সময় ওয়াসায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার ভেতরে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেকে আগে যোগদান করেও জুনিয়র অবস্থায় পড়ে আছেন। আবার কেউ কেউ পরে যোগদান করেও প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি পেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ বা পদোন্নতি বছরের পর বছর ঝুলে আছে। অথচ হঠাৎ করে আওয়ামীপন্থী কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রক্রিয়া গোপনে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। জ্যেষ্ঠতা তালিকা না করে অস্বচ্ছভাবে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরে যোগদান করেও অনেককে আগে নিয়ে এসেছে। ওয়াসার সচিবালয় বিভাগ থেকে টাকার মাধ্যমে এসব করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়াসা একটি জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়োগ নয়, বরং অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল সহকারী অপারেটর (পাম্প) পদে মাস্টাররোল থেকে ৩১ জনকে নিয়মিত করা হয়। পরবর্তীতে ৯ জুলাই আরও ১৫ জনকে একই পদে নিয়মিত করা হয়। কিন্তু তাদের স্থায়ী পদের তালিকায় জ্যেষ্ঠতার ধারা ঠিক রাখা হয়নি। ফলে একই পদে পরবর্তীতে যোগদান করেও অনেকে সিনিয়র বনে গেছেন। এমন অভিযোগ নিয়ে গত রবিবার চট্টগ্রাম ওয়াসা এমডির কাছে অভিযোগ করেছেন মুহাম্মদ ফজলুল কাদের, জোছনা আকতার, আহসান নাইম।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফজলুল কাদের বলেন, সহকারী পাম্প অপারেটর পদে ৩১ জনকে নিয়মিত করার চারমাস পর আরও ১৫ জনকে নিয়মিত করা হয়। কিন্তু তালিকায় জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখা হয়নি। যোগদানের তারিখ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু সেটা না করে আমাদের চারমাস পরে যোগদান করেও তাদের সিনিয়র করা হয়েছে। এমন বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা এমডির কাছে আবেদন করেছি।