
এস.এম. জোবাইদুল হোসেন সাদ্দাম
৪০০ বছরের ইতিহাস, ইসলাম ও মুসলিম জাতির কল্যাণ এবং সাধারণ অসাধারণ সবারই স্থান এ মঞ্জিল।
মুমিনগণ তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় কর এবং আমার নেয়ামতের না শোকরিয়া করিও না। সূরা বাকারা-১৫২
“মান আরাফা নাফসাহু ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু” বংশ পরিক্রমায় বণি ফাতেমী-আওলাদে হযরত মীর দাঁতা গঞ্জেবখ্শ লাহুরী (রহ.) আওলাদে রাসুল (দ.) সৈয়্যদ মীর কাজী আলফা হুসাইনী (রহ.) সৈয়্যদ মুফতিয়ে আজম হযরত মাওলানা শাহ্ সূফি কাজী মীর আব্দুল গণী (রহ.) মুফতিয়ে আজম হযরত শাহ্ সূফি সৈয়্যদ কাজী দাতা মীর ইয়াহ্ইয়া (রহ.) এই ধারায় হযরত মাওলানা শাহ্ সূফি সৈয়্যদ খাজা মীর কাজী মোস্তাহাসান বিল্লাহ চিশতিয়া নক্শবন্দিয়া মাইজভান্ডারী (রহ.) এর ৩৪ তম ওরশ শরীফ ২৯ কার্তিক ১৪ নভেম্বর ২০২৫ইং রোজ জুমাবার। তাঁর সহর্ধমীনি ছিলেন মরহুমা হযরত সৈয়্যদা আম্বিয়া খাতুন (রহ.) প্রকাশ অলি আম্বিয়া (রহ.)। সৈয়্যদ দাতা কাজী মীর ইয়াহ্ইয়া (রহ.) আনুমানিক ১৬৬৫ খ্রীষ্টাব্দ ১৫ রমজান মীর দাতা গঞ্জেবখ্শ (রহ.) হুজরা প্রাঙ্গণে দুনিয়ায় তাশরীফ আনেন। এবং ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে ৩রা রবিউল আউয়াল সুবহে সাদেকের সময় তাঁর নিজ নির্মিত হুজরা শরীফে বর্তমান পুরাতন বাড়ীর অত্যাচারীদের দখলকৃত খাচারী ঘরে দ্বীদারে ইলাহীর ডাকে সাড়া দিয়ে এই ধরধাম ত্যাগ করেন। তিনি স্বীয় পিতা হযরত সৈয়দ কাজী মীর আব্দুর রশীদ (রহ.) এর কদম শরীফের নিচে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন। তাঁর মাতা ছিলেন হযরত সৈয়্যদা আবেদা উম্মে ইয়াহ্ইয়া মুনাওয়ার (রহ.)।
চট্টগ্রামে শিক্ষা খাতে তাঁর অবদান ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম। বৃটিশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত তাঁর অর্থায়নে দক্ষিণ অঞ্চলের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটিয়া আদর্শ বিদ্যালয় ২৫ বছর পরিচালনা হয়। এছাড়াও এই কাজীর দেউরীতে তৎকালীন মীরের দেউরি যার নামকরণ হয় মোঘল সম্রাট হতে প্রাপ্ত মীর মন্জীল পদবী। ঐ স্থানে তৎকালীন সময়ে মীর ইয়াহ্ইয়া নামক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। যেখানে হাজার হাজার ছাত্র দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেছিলেন। যদিও বর্তামানে কিছু দখলদারীত্ব হীনম্মন্যতার অর্থলোভী মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির কবলে পড়ে সেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এমনকি তিনি চট্টগ্রাম শহরে ১৮৭৪ সালে মোহসিনিয়া ফান্ডের বদান্যতায় মোহসিনিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন যা বর্তমানে হাজী মহসিন কলেজ নামে পরিচিত। তাঁর কারামতের মধ্যে কন্যা বিবাহ কার্যে পুকুর হতে বিবাহের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা সহ নিজ শিষ্যকে ওফাতের পর ইলমে দ্বীন শিক্ষা পরামর্শ প্রদান লোকমুখে অধিক প্রচলিত। হযরত মাওলানা শাহ সূফী সৈয়দ কাজী দাতা মীর ইয়াহ্ইয়া (রহ.) সম্পর্কে ইমাম গাজী শেরে বাংলা (রহ.) তাঁর লিখিত কিতাব “দেওয়ানে আজিজে” উল্লেখ আছে। ইসলাম ধর্মে শাশ্বত সৌর্ন্দয্য এবং রমণীয় বিকাশের মূল ধারাকে যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে নিয়েছেন তাঁরা ধর্মের সংস্কারক তাসাউফ সূফি সাধক হিসেবে ইতিহাসে নিজেদের অবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অকুতোভয়ে তাঁদের চিন্তা চেতনা সমসাময়িক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একধরণের নৈতিক বিপ্লবের সৃষ্টি করে ধর্ম বিশ্বাসের শাশ্বত ধারার পূর্ণজাগরণ ঘটিয়েছে। দেশ-দেশান্তরে তাঁদের ত্যাগ ৪০০ বছরের ইতিহাস, ইসলাম ও মুসলিম জাতির কল্যাণ এবং সাধারণ অসাধারণ সবার স্থান এই মীর মঞ্জিলে। এই দ্বারা এখনো চলমান জাগ্ররত রয়েছে। সংবেদনশীলতা ঐশী আনুগত্যের ঝলওয়া ও নবী প্রেমের চ‚ড়ান্ত আবেগ আল্লাহ ও নবী অলীর অসীমতাকে তাঁরা ধারণায় এনেছেন ভয় ভীতি শঙ্কা নিয়ে নয়, বরং চরিত্রের মাধুর্য্যের পরম মমতায় সর্বোচ্চ ভালোবাসার প্রীতিময় ঢেলে দিয়ে তাঁদের সাধনা এবং ভাব ভান্ডারের প্রকাশ ঘটিয়েছে। শুকরিয়া আদায় করছি যারা এই লেখাটি পরতেছেন তাদের প্রতি। তাসাউফের নিঃগূঢ় রহস্য ও সূফিদের স্তরবিন্যাস পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সকল প্রসংশা আল্লাহর যিনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তরকে (ক্বলব) নিজের অপার সৌন্দর্য্যের প্রতিফলনের স্থল বানিয়েছে। তাঁদের (আল্লাহর অলীদের) অন্তর (ক্বলব) থেকে তাঁর শাশ্বত ও অদি অকৃত্রিম নুর প্রকাশিত হয়। যা তাদের মূখমন্ডলে ঝলমল করে। এমন অবস্থায় তাঁরা আল্লাহ্ জিকিরে সদাসর্বদা নিমর্জিত থাকেন। সালাম ও দরূদ বর্ষিত হোক সেই মহান ব্যক্তির উপর যিনি আলোকিত অন্তর (ক্বলব) দিয়ে সৃষ্টির পর্দা ছিন্ন করেন এবং আল্লাহর অস্তিত্বের গোপন রহস্য তাঁদের অন্তরে অন্তঃস্তলে প্রকাশ করেন। ফলে তাঁরা সমগ্র সৃষ্টি জগতে আল্লাহ ছাড়া কিছুই দেখে না। কেয়ামতের দিন পর্যন্ত শান্তি বর্ষিত হোক তাঁদের পবিত্র বংশধর আশেক, মুরিদ এবং অনুসারী ও অনুগামীদের উপর। আমরা চেষ্টা করতেছি শোকর আদায় করার। অলীর জিকির আল্লাহ্ ও রাসুল (দ.) এর জিকির। মীর কাজী ইয়াহ্ইয়া (রহ.) এর বংশ পরমপরায় তাঁর এই ত্যাগ মুসলিম জাতির কল্যাণে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকবে। মীর মঞ্জিলের চিত্র-মসজিদ, খানকাহ্, লঙ্গর খানা, মুসাফির খানা, উন্মুক্ত পুকুর। সৈয়্যদ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) এর আসন শরীফ, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহ.) এর হুজরা শরীফ, মাওলা হুজুরের খানকাহ্ শরীফ।
ধর্মীয় দিবস পালন: ১০ মহররম, ১২ রবিউল আউলিয়া, ফাতেহায়ে ইয়াজ দাহুম, ৬ রজব খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহ.) ওরশ শরীফ, রমজান ব্যাপি উন্মুক্ত সেহরী ও ইফতারি পরিবেশন, বাবা ভান্ডারীর মাসিক ফাতেহা শরীফ, খিজির (আ.) এর ফাতেহা শরীফ। মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বিভিন্ন ওরশ মোবারক পালন খোলাফায়ে রাশেদীন (রাঃ) ও সুফি শিক্ষা মেধা বৃতির পুরস্কার বিতরণ করেন। সৌহার্দ্য বিনিময় -বাগে অলী আল্লাহ্ দরবার শরীফ মীর মঞ্জিলের সাথে বিভিন্ন দরবারে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখ্য হযরত শাহ সূফি আজিজুল হক মাইজভান্ডারী, চরণদ্বীপ দরবার শরীফ, আহলা দরবার শরীফ হযরত শাহ্ সূফি খলিল শাহ্ (রহ.) হযরত শাহ সূফি মাস্টার বাবা (রহ.), হযরত আবদুল বারেক শাহ্ (রহ.) হযরত শাহ্ সূফি খাজা দরবেশ মাওলা (রহ.) (প্রকাশ নুরু ফকির), হযরত শাহ্ সূফি বেলায়ত আলী (ক.), কামালিয়া দরবার শরীফ, সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (প্রকাশ মাওলা হুজুর) ও মাইজভান্ডারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন, আওলাদ ও আশেকবৃন্দের সাথে সম্পৃক্ততার রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং রোজ জুমাবার কাজী মীর হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম তুষার- এর আহবানে ড. সেলিম জাহাঙ্গীর স্যার মুফতি মুহাম্মদ মাসউদ রেজভী আমি সহ আলহাজ্ব সৈয়্যদ মীর কাজী আবুল হোসাইন রূমী গোলামে মাইজভান্ডারী আলাপচারিতায়- ড. সেলিম জাহাঙ্গীর স্যার প্রশ্ন করেন; বুদ্ধি ভিত্তিক আন্দোলনের অগ্রদূত সাহিত্যিক অধ্যাপক আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩), মোশরীকি পাকিস্তানের সভাপতি শেরে বাংলা আজিজুল হক আল কাদেরী (রহ.) এর গুণীজনের সাথে এই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সম্পৃক্ততা কী ভাবে?
রূমী চাচা বলেন; বাবা সৈয়্যদ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী(ক.) এর দৃষ্টি বা নজর এই মীর পরিবারের উপর। আমার দৃষ্টি কোণ থেকে সৈয়্যদ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) এর আনাগুনায় এই পরিবার হয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী রওনক মীর মঞ্জিল।
লেখক : প্রাবন্ধিক










