ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ

4

পূর্বদেশ ডেস্ক

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। কাকডাকা ভোর থেকেই সারাদেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জের পথ ঘাটে নেমে এলো হাজারো মানুষ। রেডিওতে ফের শোনা গেল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কণ্ঠস্বর, ‘আমি জিয়া বলছি।’ ফিরে এলো ২৬ মার্চের স্মৃতি। জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বুকের ওপর থেকে সরে গেল জগদ্দল পাথর। পথে পথে শুরু হল বিপ্লব আর বিজয় উল্লাসের মিছিল।
জনতার করতালিতে মুখরিত চারপাশ। বুকে বুক মিশিয়ে সিপাহী- জনতার আলিঙ্গন। কাঁধে কাঁধ – হাতে হাত, এক কণ্ঠে এক আওয়াজ- ‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই; জওয়ান জওয়ান ভাই ভাই; বাংলাদেশ জিন্দাবাদ; মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ; হাতের সঙ্গে হাত মেলাও- সিপাহী-জনতা এক হও।’ এত আনন্দ, এত উল্লাস- সিপাহী ও জনতার হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের কোরাস- এ এক অনবদ্য ইতিহাস।
আজ শুক্রবার সেই ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড় ঘোরানো দিন। সিপাহী- জনতার বিপ্লবের দিন। এই বিপ্লবের মাধ্যমে চরম বিশৃঙ্খল ও অনিশ্চিত এক দুঃখজনক অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী ও নয়া উপনিবেশবাদী সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। জাতির বিশাল সংকটের মুহূর্তে দেশপ্রেমিক বিপ্লবী সিপাহী-জনতা চক্রান্তকারীদের হটিয়ে দিয়ে, গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জেনারেল জিয়াকে দায়িত্বে বসিয়েছিল এই দিনে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিএনপি ১০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
কর্মসূচি-সমূহ হলো; আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় প্রতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে আজ বেলা ৩টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সারাদেশে বিএনপি’র উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন স্ব স্ব উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।
শ্রমিক দলের উদ্যোগে গত ৫ নভেম্বর-আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদললের উদ্যোগে আগামীকাল-আলোচনা সভা (আজ ও কাল টিএসসি-তে আলোকচিত্র প্রদর্শনী) ওলামা দলের উদ্যোগে ৯ নভেম্বর-এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, তাঁতী দলের উদ্যোগে ১০ নভেম্বর-আলোচনা সভা, কৃষকদলের উদ্যোগে ১১ নভেম্বর-আলোচনা সভা, জাসাস এর উদ্যোগে ১৩ নভেম্বর-শহীদ মিনারে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিএনপি’র উদ্যোগে ১২ নভেম্বর বুধবার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ডকুমেন্টারি (ভিডিও, স্থিরচিত্র) ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়াসহ ফেসবুক, ইউটিউব ও অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।
১৯৭৫- এর ৭ নভেম্বরের পরে শুরু হয় আত্মমর্যাদাশীল স্বকীয় ‘বাংলাদেশি সংস্কৃতির বিকাশ ও স্বাধীন বাংলাদেশি জাতিসত্তা’র নতুন যাত্রা। উদিত হয় নতুন আশার নতুন সূর্য। আর এই নতুন সূর্যোদয়ের নতুন নায়ক ইতিহাসের বরপুত্র শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি মুছে ফেলতে চলেছে নানা ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে জিয়াউর রহমান জায়গা করে নিয়েছিলেন সাধারণের অন্তরে।
১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বরের ঘটনা প্রবাহের সাক্ষী জিয়াউর রহমানের সেই সময়ের সহকর্মী, এলডিপি চেয়ারম্যান, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বীর বিক্রম। বাসসের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের ঘটনা প্রবাহের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আর্মি সর্বপ্রথম পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। ওইদিন রাত্রে তিনি সবাইকে একত্রিত করলেন, অতঃপর আমরা সবাই মুক্তি সংগ্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অন্যদিকে, শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। যুদ্ধ চলাকলে তিনি তো বাংলাদেশে আসেননি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলো দেশের সাধারণ জনতা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি লন্ডন হয়ে দিল্লি গেলেন। এরপর দিল্লি থেকে দেশে ফিরলেন। দেশে ফিরে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ভরসা না রেখে গড়ে তুললেন রক্ষীবাহিনী। জনগণকে দমনে গঠন করেন মুজিব বাহিনী। ফলে ক্রমেই সেনাবাহিনীতে তার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে।
তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে ১৫ আগস্ট একদল সেনা অফিসার তাকে হত্যা করে। তার এই মৃত্যুর পিছনে অন্যতম কারণ ছিল, তিনি ওয়াদা থেকে সরে গিয়েছিলেন। গড়ে তুলেছিলেন একদলীয় বাকশাল শাসন।
তাকে যারা হত্যা করলেন সেই সেনা অফিসাররা তার ঘনিষ্ঠ সহচর খন্দকার মোশতাককে নতুন রাষ্ট্রপতি করলেন। ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ক্যু করলেন। নিজেকে মেজর জেনারেল ঘোষণা করে নিজেই সেনাপ্রধান হয়ে গেলেন। গৃহবন্দি করা হলো তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। কিন্তু খালেদের এই অভ্যুত্থান সাধারণ সেনা সদস্যরা মেনে নেননি। ফলে আরেকটি পল্টা ক্যু সংগঠিত হলো। এই ক্যু’তে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারা জিয়াউর রহমানকে পুনরায় তার সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে তাকে সেনা প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দিল। ওই পরিস্থিতিতে তিনি আবারো সেনা প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটা হয়েছিল আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য।
তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশারফ আওয়ামী লীগের স্বার্থে ও বিদেশি শক্তির সহায়তায় ৩ নভেম্বর ক্যু করেছিলেন। আর্মিতে তখন শৃঙ্খলা খুবই ভালো ছিল। জিয়াউর রহমান অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দক্ষ সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি শেখ মুজিবের সময় উপ-সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। মূলত তারই সেনাবাহিনী প্রধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান সিনিয়রিটি ব্রেক করে শফিউল্লাহ সাহেবকে সেনাপ্রধান বানালেন। ১৫ আগস্টের পর সেনাবাহিনীতে সবকিছুই ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু খালেদ মোশারফ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য ৩ তারিখ ক্যু করেছিলেন। বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। বরং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতা আরেকটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিল।
সৈনিকদের মাঝে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অফিসিয়ালি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। জাতির দুর্দিনে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বরের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার সঙ্গে ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে। ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের পর পরই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বঙ্গভবনে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, খালেদ মোশাররফ কর্নেল সাফায়ত জামিলের সহায়তায় অভ্যুত্থানের আগে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। এই পেক্ষোপটে মঞ্চে প্রবেশ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের নামের একজন অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি জাসদের সহ সভাপতি হিসেবে ৩ বছর আগে অবসর গ্রহণ করেন। কর্নেল তাহের এবং মেজর জলিল জাসদের নেতৃবৃন্দ মিলে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা নামে একটি ইউনিট গঠন করে। যার লক্ষ্য ছিলো সিপাহীদের দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করা।
এই পেক্ষাপটেই আসে ৭ নভেম্বর। কর্নেল রশিদের সৈনিকেরা গিয়ে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে টু ফিল্ড রেজিমেন্টে নিয়ে আসেন। সেখানে বসেই জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর দায়িত্বভার পুনরায় গ্রহণ করেন। সেনাপ্রধান রূপে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আত্ম-নিয়োগ করেন।
১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে উঠে, তখন ৭ নভেম্বর অবধারিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সিপাহী বিপ্লবের চরম অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে জিয়াউর রহমান শক্ত হাতে হাল ধরে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পেক্ষাপটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কতটা প্রাসঙ্গিক এ বিষয়ে বাসসকে তিনি বলেন, দেখুন যখন আপনি পিচফুল ট্রান্সফার অব পাওয়ার দেবেন না, একটা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না; যখনই জানালা দরজা বন্ধ করে দেবেন তখনতো আরেকটা জানালা খুলবেই।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরে জিয়াউর রহমানকে হাউজ এরেস্ট করে রেখে দেয়া হয়। দেশপ্রেমিক কিছু সেনা সদস্য ৭ নভেম্বর ক্যু করে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে। এর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হয়। সেই হিসেবে ৭ নভেম্বর একটা টানিং পয়েন্ট। এ টানিং পয়েন্টটা ছিলো টু‘ওয়ার্ড ইন্ডিটেন্ডেন্ট এন্ড সোভরেন্টে অব বাংলাদেশ।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’ উল্লেখ করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতেই ৭ নভেম্বর তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনটি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ৭ নভেম্বরের পটপরিবর্তনের পর প্রেসিডেন্ট জিয়ার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী সত্তা হিসেবে রূপ লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর এলেই জিয়াউর রহমানকে হৃদয়ের গভীর থেকে অনুভব করেন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মাশাররফের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান হলে জিয়াউর রহমান নিজ বাসগৃহে বন্দি হন। তাকে বন্দি করা হয়েছে শুনে মানুষজন খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষ জাতির এই মহান সন্তানকে কোনোক্রমেই হারাতে চাইছিল না। পরে যখন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়া মুক্ত হলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর যে কালো ছায়া নেমে এসেছিল, তা বিদূরিত হলো। জিয়াউর রহমান কার্যত রাষ্ট্রের কর্ণধারে পরিণত হলেন।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষ্য- ‘১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বরের পর থেকে জাতি এই দিবসটি পালন করে আসছে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণ এবং সামরিক বাহিনী ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে।
দিবসটিকে দলীয় রাজনীতির বিবেচনা থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যে দিবস স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ়করণের প্রতীকস্বরূপ জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সৈনিক-জনতার ঐক্য ও সংহতির পরিচয় বহন করে। খবর বাসসের।