সোহেল আজিম, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজার- লালজানপাড়া সড়কটি যেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সড়ক। দীর্ঘ ২ যুগ ধরে এই সড়কটিতে কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রাজাখালী থেকে টইটং ইউনিয়ন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অবহেলিত এই সড়কটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ৬ গ্রামের অন্ততঃ ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ২৪ বছরে ৫ জন চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও কেউ সংস্কার করেনি। যুগের পর যুগ রাস্তাটি মেরামত না করায় ভোগান্তিতে ৬টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। যার ফলে গ্রামের অসংখ্য মানুষ অসুস্থ পর্যন্ত হচ্ছেন। গ্রামের গর্ভবতী, বয়স্ক-শিশুসহ রোগীদের হাসপাতালে, ডাক্তারখানায় কিংবা ফার্মেসীতে নিতে হলে কোলে করে, দোলনা বা কাপড় পেঁচিয়ে বাঁশে বেঁধে নিয়ে যেতে হয়। সাইকেল ছাড়া কোনো গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করার সুযোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মূল অংশে পাঁচ শতাধিক গর্ত রয়েছে। ২০-৩০ মিটার পরপর রাস্তার ইটগুলো সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়কের কোনো কোনো অংশে জমে আছে হাঁটু পরিমাণ কাদা। ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত না করায় রাস্তাটি ক্রমশ সরু হয়ে এসেছে। চলাচল করতে পারছে না মোটরসাইকেল, বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা, ভ্যানও। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীর।
ইউনিয়নের লালজান পাড়া, টেকঘোনা পাড়া, রব্বত আলী পাড়া, বকশিয়াঘোনা পাড়া, সুন্দরী পাড়া, রায় বাপের পাড়া, আমিলা পাড়া ও মাঝির পাড়াসহ টইটং ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়, ফৈয়জুন্নেছা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বি ইউ আই ফাযিল মাদ্রাসা, আজিগরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়িয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এই পথটি। ভাঙা রাস্তায় যাতায়াতের ভোগান্তির কথা জানায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও।
লালজান পাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম প্রসবের রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, কিছু দিন আগে আমার ননদকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে রাস্তায় প্রসব হয়ে যায়। এমন দুর্ভোগ আমরা চাই না, রাস্তাটা সংস্কার চাই।
পেকুয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, বর্তমানে কোনো প্রকল্প নেই। স্থানীয় প্রতিনিধিদের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী কোনো প্রকল্পে আওতাভুক্ত করা হবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিতভাবে জানায়নি। আমি রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।











