নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরীর বন্দর থানাধীন নিমতলা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেট কার ছিটকে নিচের সড়কে পড়ে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরো চারজন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর থানাধীন নিমতলা মোড়ের কাছে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এই টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িটি পড়ে যায়।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, গাড়িটি পতেঙ্গার দিক থেকে আসছিল। নিমতলা মোড় ও বন্দর থানার মাঝামাঝি স্থানে গাড়িটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নিচে বারিক বিল্ডিংমুখী সড়কে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারে থাকা গুরুতর আহত এক তরুণীসহ চারজনকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পথচারী শফিককে (৫৫) মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শফিক হাসপাতালে মারা যান। পরে তিনি জানান, এক্সপ্রেসওয়ের নিচে গাড়ি চাপা পড়ে নিহত শফিক বাইসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি উপর থেকে তার ওপর পড়ে। নিহত শফিক চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান বলেন, গাড়িটি যে স্থান থেকে ছিটকে পড়েছে, সেখানে বাঁক রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে তীব্র গতিসম্পন্ন গাড়িটি নিচে পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
ফয়সাল নামের প্রত্যক্ষদর্শী এক কিশোর বলেন, গাড়িটি নিচে পড়ার পর বিকট শব্দ হয়। কাছে আসার পর দেখা যায় গাড়িটি একদিকে উল্টে পড়ে আছে এবং চাকা ঘুরছে। সেখান থেকে ১৭-১৮ বছর বয়সী এক মেয়ে বের হয়ে আসে। আমরা মিলে সেখান থেকে তিনজনকে বের করি। তাদের মধ্যে দুইজনের বয়স ১৮-২০ বছর এবং চালকের বয়স আরেকটু বেশি হতে পারে।
নিচের সড়কের পাশে মাটির স্তূপ ছিল এবং গাড়িটিতে এয়ার ব্যাগ থাকায় হতাহাতের সংখ্যা কম হয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ বিধ্বস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে বন্দর থানায় নিয়ে রাখে। কিছু সময় পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরের আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলক চালুর পর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই মোটরসাইকেল আরোহী। চলতি নভেম্বর মাসেই দুটি প্রাইভেট কার উল্টে যায় এই উড়ালসড়কে। মূলত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বাঁক, চালকদের গতিসীমা না মানা এবং বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সিডিএ বলছে, এগুলো স্বাভাবিক বাঁক। চলাচলে কোনো ঝুঁকি নেই। গতিসীমা না মেনে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা মানা হচ্ছে না। ফাঁকা পেলেই সেখানে দ্রæতগতিতে চলছে যানবাহন। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চলছে মোটরসাইকেল।
সিডিএ সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয় ৬০ কিলোমিটার। তবে আঁকাবাঁকা অংশে সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৪০ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামানো বা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং গাড়ি থেকে নামা নিষিদ্ধ। পরীক্ষামূলক যান চলাচলের সময় সাময়িকভাবে ট্রাক, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে চলছে মোটরসাইকেল।
সরেজমিন দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলাচলরত গাড়ির অধিকাংশই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। এ ছাড়া বড় একটি অংশ কার ও মাইক্রোবাস। চলাচলের সময় অধিকাংশ গাড়িই গতিসীমা মেনে চলছে না। গতিসীমার মাপার জন্য কোথাও নেই যন্ত্র বা ক্যামেরা। কিছু স্থানে গতিরোধক থাকলেও নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকেরা।
লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের দেওয়ানহাট, বারিক বিল্ডিং, সল্টগোলা, ইপিজেড, কাঠগড় এলাকায় বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতেও গাড়ির গতি কমানোর প্রবণতা কম চালকদের। এক্সপ্রেসওয়ের অনেক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রীরা বের হয়ে আসেন। ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায়। এসবের কারণে সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।










