এবার ভোটার তালিকা মুদ্রণের প্রস্তুতি, ভোটার স্থানান্তর বন্ধ

2

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের তালিকা ছাপানোর চূড়ান্ত কাজ চলছে। এখন আর ভোটার স্থানান্তর করা যাবে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন করলেও সংশোধিত আকারে পেতে বিলম্ব হবে।
এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে একসঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির এ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘোষণার কথা রয়েছে।
নির্বাচনের জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার প্রয়োজন পড়ে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীদের ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি কিনে নিতে হয়। এজন্য তফসিল ঘোষণার আগেই সার্বিক প্রস্তুতি নিতে হয় নির্বাচন কমিশনকে। এ কারণে নির্বাচন কমিশন-ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ মুদ্রণের লক্ষ্যে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ করছে। খবর বিডিনিউজ’র
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সুবিধার্থে ভোটার স্থানান্তর বন্ধ রয়েছে, সংশোধিত এনআইডি পেতেও বিলম্ব হবে।
গতকাল সোমবার জানতে চাইলে এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “যেহেতু ভোটার তালিকা ‘জেনারেশনের’ কাজ চলছে, সেজন্যে এনআইডি সংশোধনের কাজটা চলমান থাকলেও এর ফলটা এখন দেখা যাবে না। ফলটা এ সংশোধনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে পাওয়া যাবে।”
তিনি বলেন, ভোটার নিবন্ধনের কাজও চলমান থাকবে। স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, ভোটের আগে এটা আর হবে না। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকার কাজ চলমান থাকা অবস্থায় কারো এনআইডি সংশোধন হয়ে গেলে ভোটার তালিকায় এবং হাতে থাকা এনআইডিতে দুই রকম তথ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দিতে পারবেন না।
ছবিসহ ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে- তফসিল ঘোষণার ন্যূনতম সাত দিন আগে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে আসনভিত্তিক ছবিসহ ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি বা পিডিএফ লিংক যাচাই বাছাইয়ের জন্য নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।
তফসিল ঘোষণার ন্যূনতম তিন দিন আগে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ হতে আসনভিত্তিক যাচাই-বাছাইকৃত ছবিসহ ও ছবি ছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সিডি অথবা পিডিএফ এর লিংক নিবন্ধন কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক ছবিসহ ভোটার তালিকার কপি মুদ্রণের নির্দেশনা দেওয়া হবে, বাস্তবায়ন করবে ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন সহায়তা-২ শাখা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ছবিসহ ভোটার তালিকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক কপি মুদ্রণ কাজ সম্পন্ন করবেন সিনিয়র জেলা/জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে মুদ্রণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
কর্মপরিকল্পনা ধরে কবে নাগাদ মুদ্রণের কাজ শুরু হবে কবে? জানতে চাইলে এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং মহাপরিচালক বলেন, “সুনির্দিষ্টভাবে এটা এ মুহূর্তে বলতে পারবো না। অনেক বড় ভোটার তালিকা, কাজ শুরু হয়েছে এখন করতে যতদিন লাগে।আমরা কমিশন থেকে যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি, সেভাবে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।”
চলতি বছর ২ মার্চ, ৩১ অগাস্ট ও ১৮ নভেম্বর তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
যাদের জন্ম ৩১ অক্টোবর ২০০৭ বা তার আগে তাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে গত ১৮ নভেম্বর। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যার তথ্য তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এখন মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। চূড়ান্ত তালিকায় পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩৪ জন।
মনোনয়নপত্র নেওয়ার সময় প্রার্থীদের প্রতি ইউনিয়ন/ওয়ার্ডের জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি কিনতে হবে।
আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, এবার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে।