এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দিলে দেশ সংকটে পড়বে

4

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মশাল মিছিলটি নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার ওয়াপদার মোড় থেকে শুরু হয়ে বড়পুল মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে বন্দর রক্ষা পরিষদের আহব্বায়ক আবু সাইদ হারুনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রামের আহব্বায়ক হাসান মারুফ রুমী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ শক্তি। এটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার ষড়যন্ত্র কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কারণ বন্দর একতরফাভাবে ইজারার সিদ্ধান্ত বিগত সরকারের আমলে নেওয়া। যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহাল রেখেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার এই চক্রান্ত জনগণ কখনো মেনে নেবে না। সরকারকে অবিলম্বে এনসিটি, সিসিটি ও লালদিয়ার টার্মিনাল সহ বিভিন্ন স্থাপনা ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রধান বক্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ভিয়েতনাম কিংবা সিঙ্গাপুর কেউই দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তাদের বন্দরের একটি টার্মিনালও এককভাবে কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেয়নি। বেশিরভাগ টার্মিনাল তারা নিজেরা অপারেট করে। বিডার নির্বাহী আশিক চৌধুরী ভিয়েতনামের কাই মেপ-থি ভাই বন্দরের উদাহরণ টেনেছেন। অথচ এই বন্দরের মোট ৭টি টার্মিনালের একটি টার্মিনালও এককভাবে কোনো বিদেশি অপারেটর অপারেট করে না। সবগুলো ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় অপারেটরের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে অপারেট করা হয়। আর সিঙ্গাপুর বন্দরের ৩টি টার্মিনালের সবগুলো তারা নিজেরাই অপারেট করেন। সিঙ্গাপুর এখানে একটি টার্মিনালও বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আপনি যেমন বাংলাদেশের সম্পদ তেমনি চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি এনসিটিও বাংলাদেশের সম্পদ।আপনি কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে এবং কোন ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি না করে বাংলাদেশের হার্ট চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি এনসিটি বিদেশিদের হাতে লিজ দেবেন না।
বন্দর রক্ষা পরিষদ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অত্যাধুনিক টার্মিনাল। এ টার্মিনাল দিয়ে আমদানিকৃত বর্তমান ট্যারিফ অনুয়ায়ী প্রতি টিইইউএস কন্টেইনারে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় ১৬৫ ডলার আয় হয়। সেখান থেকে টার্মিনাল অপারেটরকে বিল দেয়া হয় গড়ে ১০ ডলার এবং অন্যান্য খরচ হয় আনুমানিক ৪০ ডলার। এরপর চট্টগ্রাম বন্দরের নীট আয় হয় ১১৫ ডলার। যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের বন্দরকে ৫০ ডলার দেয় তাহলে তারা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে প্রতি টিইইউএস কন্টেইনারে ৬৫ ডলার। যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড এ টার্মিনালটি পরিচালনা করে তাহলে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের হিসাব অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশ থেকে ৯,৪০,২১,২১৫ ডলার (যা বাংলাদেশি টাকায় ১১শ ৪৭ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৫ টাকা) নিয়ে যাবে (এটি প্রতীকী হিসাবে দেখানো হলো)। এই বিপুল পরিমাণ ডলার বিদেশে চলে গেলে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ডলার সংকটে পড়বে। আর ট্যারিফ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস হলে বিদেশে ডলার চলে যাওয়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
শফিকুল ইসলাম ও হুমায়ুন কবীরের (ভূমি) সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মোজাহের হোসেন শওকত, মো. আবুল কালাম, আনোয়ারুল আজিম (রিংকু), মহানগর শ্রমিক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আজিম, মহানগর বিএনপির নির্বাহী সদস্য বিভাগীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজি আইয়ুুব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিকি, বন্দর শ্রমিকদল নেতা শেখ ছানুয়ার মিয়া, আকতার হোসেন, মোস্তফা চৌধুরী, মো. নাছির উদ্দিন, মোশারফ হোসেন, দিদারুল আলম, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ছরোয়ার, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ, ফরিদুর রহমান, নুরুল আজিম আল আমিন প্রমুখ।