উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রাজনীতিতে একজন সাহসী দিকপাল

2

আলমগীর নূর

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর এক বছর পূর্ণ হয়েছে ৩ নভেম্বর। চট্টগ্রাম নগর সেবায় এক বছরের অগ্রযাত্রা অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সততার প্রতীক চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ১/১১ থেকে দীর্ঘ ১৮ বছরের এক ঘোর অমানিশার কবলে নিমজ্জিত ছিলো বীর চট্টগ্রাম। দেড় যুগ পরে চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রাজনীতিতে সাহসী দিকপাল হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেনের আবির্ভাব যেন নতুন বাংলাদেশের পটভূমিতে এক আলোর দিশারি। তিনি চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে এক বিশ^স্ত উন্নয়নের কান্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চট্টগ্রামের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ডা. শাহাদাত হোসেন কেবল একটি পরিচিত নাম নন। তিনি দীর্ঘ সংগ্রামের এক অদম্য শক্তিশালী জীবন্ত প্রতীক। ৩৭ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধারণ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহব্বায়ক অতপর নব্বই’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী অকুতোভয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তৃণমূল থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে চরম দুর্দিনের কান্ডারি, তিল তিল করে বেড়ে উঠা নেতৃত্ব বর্তমানে চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের এ নগর পিতা ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রসঙ্গতঃ তাঁর ভাষায় নগর সেবক। গত এক বছরের দায়িত্বকালীন সময়ে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আগামী ১ বছরের মধ্যে ৫০ টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইতিমধ্যে। যা চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনবে। ১/১১’র পটভূমি থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৯ বছর দুর্দিনে দলের প্রতি অবিচল ও বিশ্বস্ত থেকেছেন তিনি। কারাগার থেকে চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন থেকে এমপি নির্বাচন করেছেন। কারানির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েও যিনি হাল ছাড়েননি, সেই মানবদরদী চিকিৎসক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের একজন সাহসী বীর। অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে নতুন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পটভূমিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রের মুকুট অর্জন করেছেন। এ অর্জন তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এক যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘদিনের জমে থাকা নাগরিক সমস্যা, অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে চট্টগ্রামবাসী যে আস্থার সংকটে ভুগছিলেন, ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে নাগরিক দুর্ভোগ কাটানোর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর এই উত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক বিজয় নয়, এটি চট্টগ্রামের আপামর জনগণের হৃদয়ের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন, একটি সুশাসিত-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চট্টগ্রাম নগর গড়ার স্বপ্ন। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ৪৭২ টি সড়ক উন্নয়নের মেঘা প্রকল্প বাস্তাবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চসিক মেয়র চট্টগ্রাম মহানগরের ৪৭২ টি সড়কের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, কিছু রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, কিছু চলমান রয়েছে এবং কিছু রাস্তার উন্নয়ন শিগগিরই শুরু হবে। এসময় তিনি জনগণের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কাজ চলবে, দুর্নীতির কোনো স্থান নেই’। চসিক মেয়র তাঁর কর্ম ও দূরদর্শিতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, কঠিন সময়েও একজন প্রকৃত নেতা আলোর মশাল হাতে সামনে থেকে পথ দেখাতে পারেন। দীর্ঘ প্রায় ১ বছর পূর্বে তাঁর শপথ গ্রহণ ছিলো নতুন যুগের এক মাহেন্দ্রক্ষণ। যেখানে অন্ধকার দূর হয়ে প্রত্যাশিত আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ডা. শাহাদাত হোসেন শুধু বর্তমানের মেয়র নন’ তিনি চট্টগ্রামের ভবিষ্যতের আস্থা ও সম্ভাবনার প্রতীক। তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হয়েছে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে। ২০২১ সালের চসিক নির্বাচনে তিনি পরাজিত বলে ঘোষিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যান। ২৪’র ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টায়, তখন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই আইনি প্রক্রিয়ায় আসে অভাবনীয় সাফল্য। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ঐ নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় পূর্ববর্তী প্রার্থীর বিজয়কে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং ডা. শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। এই রায় ছিল গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থার এক অসামান্য বিজয়। এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক রায় এবং ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে জনতার মেয়র খ্যাত ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়র ঘোষিত হওয়ায় পুরো চট্টগ্রামবাসী উল্লসিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের পর ২৪’ গণঅব্যুত্থানের পরে দেশে আইনী শাসন প্রতিষ্ঠা হলে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণী পেশার মানুষ উজ্জীবিত হয়ে পরেছিলো। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণমানুষের ভোটাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটল বলে মনে করেন পুরো দেশবাসী। আদালতের নির্দেশে গেজেট প্রকাশের পর, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি চট্টগ্রামের সপ্তম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘদিনের কারানির্যাতিত প্রতিটি বিএনপি নেতার জন্য রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনতার কাতারে ফিরে আসার এক ঐতিহাসিক পটভূমি। তাঁর আরও একটি অভাবনীয় বিজয় হচ্ছে চলতি বছর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক (২০২৪-২০২৫ অর্থবছর) সিটি গভর্ন্যান্স মূল্যায়নে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রথম স্থান অলংকৃত করে এবং এর স্বীকৃতিস্বরূপ ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেটগ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ স্বীকৃতিকে তাঁর সামগ্রিক জীবনযাত্রার জন্য এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দেশবাসী ও তার দল বিএনপি। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর যুগান্তকারী প্রাথমিক লক্ষ্য চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন (ক্লিন), সবুজ (গ্রিন) ও স্বাস্থ্যকর (হেলদি) এবং সেফটিসিটি হিসেবে গড়ে তোলা। ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটির স্বপ্নদ্রষ্টা হিসাবে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম নগরবাসীর নজর কেড়েছেন। তাঁর পূর্বেরনির্বাচনী ইশতেহার ও বর্তমানের ঘোষিত পরিকল্পনায় জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম নগরীর রূপকার হিসেবে তাঁর যে পরিচিতি, তা বাস্তবায়নের দিকেই এখন নগরবাসীর দৃষ্টি। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকলের আস্থা অর্জনের প্রত্যয় রয়েছে। চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতানিরসন ও পরিবেশ দূষণ রোধে তিনি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি সিটিতে পরিণত করতে চান । তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে ইতিমধ্যে। তারই ধারাবাহিকতায় শহরকে দুর্গন্ধ ও দূষণমুক্ত রাখতে বর্জ্য থেকে জ¦ালানি বায়োগ্যাস উৎপাদনের চট্টগ্রামের হালিশহর আনন্দ বাজার ল্যান্ডফিল্ডে ‘গ্যাস ক‚পের টেস্ট বোরিং’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্বোধন করে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছেন সচিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে জমাকৃত বর্জ্যগুলোকে গ্রিন ডিজেলে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন চসিক মেয়র। তিনি চট্টগ্রাম নগরকে গ্রিন হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে, তিনি আরো বলেন ‘এই নগরীতে প্রতিদিন ২২০০ টন বর্জ্যরে মধ্যে আমরা ১৬০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করি এবং বাকি ৮০০ টন বর্জ্য নালা ও খালে গিয়ে পড়ে। এজন্য আমরা ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ চালু করেছি। এজন্য প্রাথমিকভাবে বেসরকারি কয়েকটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করছে। এজন্য দিনে ২ টাকা হারে মাসে ৬০ টাকা দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। তবে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু হলে আমরা টাকা দিয়ে নগরবাসী থেকে বর্জ্য কিনে নেব’। চট্টগ্রামের বিশালাকৃতির যুব সমাজের আলোকিত ভবিষ্যৎ বিনির্মানের লক্ষ্যে তিনি যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সক্রিয় রেখে যুবসমাজ সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একটি করে খেলার মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত ১১টি ওয়ার্ডে তা বাস্তবায়ন করেছেন এবং বাকি ওয়ার্ডগুলোতে কাজ চলমান আছে।
ইতিমধ্যে, শিশুদের জাতীর ভবিষ্যৎ অখ্যা দিয়ে শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নগরীতে ৮ লাখ ২৯ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেয়ার প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন চসিক মেয়র। শুধু তাই নয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারকে রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে প্রথমবারে মতো চট্টগ্রামে ‘স্টুডেন্ট হেলথ কার্ড’ চালু করলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র বলেন, মিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা শুধু অভিভাবকদের নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনেরও দায়িত্ব। এই হেলথ কার্ডের মাধ্যমে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, টিকাদান এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের অধিবাসী হলেও নগরীর নেতা হিসেবে তাঁহার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণপদগুলো অলংকৃত করা এ নেতাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা সবসময় দুর্দিনের অনুপম অভিভাবক হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর রাজনৈতিক সামাজিকিকরণ কার্যক্রম নগরীর সীমানা পেরিয়ে চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার চন্দনাইশে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক স্মৃতিফলক পুনঃনির্মাণ ও নবনির্মিত বৈঠকখানার উদ্বোধন করে বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির দর্শন। ডা. শাহাদাত হোসেন তার সেবাধর্মী কার্যক্রম শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীতে সীমিত রাখেননি, নগরীর বাইরে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছেন যা সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্বের সজ্জনতা শুধু দলীয় গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি নগরীর সর্ব মত, পথ ও ধর্ম, গোত্রের এক নির্ভরতারপ্রতীক হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। একজন জনবান্ধব, কর্মীবান্ধব ও ব্যবসা বান্ধব নেতা হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়ে। তিনি নগরবাসীকে জনবান্ধব সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি চট্টগগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে এমন একটি জায়গায় রয়েছে যেখানে পাহাড়, সমুদ্র, পর্যটন, স্পেশাল ইকোনমিক জোন থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানে এ নগরের ওপর দিয়ে যেতে হয়। কাজেই চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’।
বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তাঁর চিকিৎিসক পরিচয় তাঁকে সমাজে একটি সম্মানিত স্থান দিয়েছে। সঙ্গত কারণে, চসিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের গুরুত্বারোপ করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁর সরব অংশগ্রহণ এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ফুটিয়ে তোলে। মেয়রের বর্তমান লক্ষ্য হলো নগর সরকার (সিটি গর্ভমেন্ট) প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে সমস্ত সেবা সংস্থাগুলো সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একই ছাতার নিচে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রস্তাবিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিএনপি একটি উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী উদার গণতান্ত্রিক ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে বদ্ধ পরিকর।তারেক রহমানের নেতৃত্বে জেগে উঠবে। তিনি বলেন, বৈশি^ক গণতন্ত্রের আইকনিক মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমানের হাতে দেশ; পথ হারাবেনা বাংলাদেশ’। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ব্যক্তিগত এক সফরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি লন্ডন সফরে গেলে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন এর পক্ষ থেকে মেয়রকে ‘Latter of Appreciation’ প্রদান করা হয়মাত্র ১২ মাসে চট্টগ্রাম নগরের ৩০ বছরের দীর্ঘ জলাবদ্ধতা নিরসনে তাঁর অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড রেইজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ফান্ড ব্যয় হবে চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনের যৌথ উদ্যোগে একটি বৃদ্ধাশ্রম ও হেলথ কেয়ার সেন্টারনির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিক মেয়র ৪০ শতক জমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সমিতি লন্ডনকে। এটি নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একটি যুগান্তকারী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অনন্য সাধারণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামবাসীর সাথে ট্টগ্রাম সমিতি লন্ডন এর সাথে নাড়ির টানের এক কালজয়ী ইতিহাস রচিত হবে।

লেখক : সাংবাদিক, অধিকার, পরিবেশ ও প্রতিবেশ উন্নয়ন আন্দোলনের একজন সক্রিয় সংগঠক