উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন

7

স্কুল, মাদরাসা এবং কারিগরি হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। ২০২৪ সালের এসএসসি(স্কুল), (মাদরাসা) দাখিল ও (এসএসসি) কারিগরির সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফল প্রকাশ পেয়েছে। প্রচার মাধ্যমে নানা বিচার বিশ্লেষণ চোখে পড়েছে। কোথায় কতজন জিপিএ ৫ পেলো, শতকরা কতজন পাস করেছে, কোন বোর্ডের পাসের হার কতো আরো কত কি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মান কি, প্রাইভেট বাণিজ্যের ভূমিকা কি, কোচিং সেন্টার কতটুকু ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলেছে তা প্রচার মাধ্যমে তেমন আলোচনায় আসেনি। দেশের শিক্ষার্থীরা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কতটুকু শিক্ষিত হয়ে উঠছে তার হিসাব কেউ করছে না। এসএসসি পাসকরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের স্তর কোথায় তা নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। সান্ত¡না হচ্ছে দেশে শিক্ষা চালু আছে। অসংখ্য সার্টিফিকেটধারি নাগরিক বের হচেছ। বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে আমরা কতটুকু শিক্ষিত জাতি উপহার দিচ্ছি তা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেছে না।
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫। এ বছর পাস করেছে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবার এক লাখ ৪৫ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছে এক লাখ ২০ হাজার ৮৭ জন। গত বছরের চেয়ে পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। তবে গত বছরের তুলনায় কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৮২৩ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৪৫০ জন। গণিত ও উচ্চতর গণিতে তুলনামূলক ভালো ফল না আসায় জিপিএ-৫ কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এএমএম মুজিবুর রহমান। এর আগে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এরপর মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ১১টায় ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশ করা হয়।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে ৩৫ হাজার ৪৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৩ হাজার ৪৯২ জন পরীক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৫১ হাজার ৩০১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৭ হাজার ৫৭০ জন পরীক্ষার্থী। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৮ হাজার ২৮৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৯ হাজার ২৫ জন পরীক্ষার্থী। এ বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ১১ শতাংশ।
ফলাফলে দেখা যায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করিয়েও চট্টগ্রামের ১০ সরকারি স্কুলে পাসের হার শতভাগ হয়নি। শতভাগ পাস ৪৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালিকায় নেই নগরীর নামকরা বিদ্যালয়গুলো।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ১২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে মোট ৪৬টি প্রতিষ্ঠান। তবে এ তালিকায় জায়গা হয়নি চট্টগ্রামের ১০ সরকারি স্কুলসহ নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। এবারই প্রথম নগরের ১০টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিও শতভাগ পাসের তালিকায় স্থান পায়নি। এছাড়া এ বছর চট্টগ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল হয়নি। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা যায়। এতে বোঝা যায় শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি ভেদাভেদ তথা বৈষম্য দূর করা জরুরি। তা ছাড়া শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সার্বিক শিক্ষার উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। আমরা দেশে মানসম্মত শিক্ষিত নাগরিক কামনা করি। দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে নৈতিক শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। তবেই আমরা সৎ,যোগ্য, চৌকস নাগরিক নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো।