ঈদে মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করা হবে

34

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, মাদক, চোরাচালান, ছিনতাই, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্যান্য কারণে প্রতিনিয়ত থানা কিংবা মামলা রুজু হচ্ছে। আদালতগুলোতে বিচারক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মামলার জট লেগে আছে। মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে বাদী-বিবাদীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকে তাদের মামলার অগ্রগতি বিষয়েও অবগত নন। মামলা মাথায় নিয়ে কোন মানুষকে যাতে কবরে যেতে না হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আদালতের বিচারক, পিপি ও সংশ্লিষ্টদের দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিবোধ নিয়ে মানুষের জন্য ভালো কিছু করা যায় কি না তা ভাবতে হবে। কাউকে হয়রানি বা বিনা দোষে দোষী সাব্যস্ত না করে আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মসলাসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে বাজার যাতে অস্থিতিশীল হয়ে না উঠে সে দিকে নজর রেখে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, কারাগারে আটক শিশু-কিশোরদের অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত বিভাগীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা, বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণের সাথে সমন্বয় সভা, জেলা প্রশাসকগণের সাথে সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস পৃথক সভাগুলোর আয়োজন করেন। বিগত সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইনামুল হাসান ও মো. মোজাম্মেল হক।
বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, সিডিএ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, গণপূর্ত, এলজিইডি, সওজ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, স্বাস্থ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমাজসেবা, বন, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, সমবায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ প্রতিটি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হলে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। যেখানে সরকারের এক টাকার সম্পৃক্ততা আছে, সে টাকা কি হয়েছে, কোথায় যাচ্ছে, সঠিক খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিতে হবে। দেশের উন্নয়নে সরকারের যে সকল প্রকল্প চলমান রয়েছে সে গুলোর কাজ যাতে সন্তোষজনক হয় সে দিকে নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে। নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক, বিল্ডিং, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য নির্মাণ কাজ, লোহার পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই কাজ কিছুতেই মেনে নেয়া যাবে না। সরকারি টাকা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারের প্রত্যেকটি প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা হবে। দুর্নীতিতে জড়ানো যাবে না। আমরা সকলে সততা, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে দেশ আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে। সিটি করপোরেশন, সিডিএ, বন্দর, ওয়াসা, এলজিইডি, সওজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরো গতিশীলকরণসহ লালখান বাজার টু এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। একইসাথে নগরীতে একটি স্মৃতিশৌধ নির্মাণ ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃক ফ্ল্যাট বা আশ্রয়ন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সিটি মেয়রের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে সড়ক ও নৌ পথ দিয়ে মাদক পাচার করছে। মাদকের কারণে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন প্রকার মাদক ও অস্ত্রশস্ত্র যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মামলা কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু মাদক ও ভেজালবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। এছাড়া কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে বিদেশে জ্বালানি তেল পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। একই সাথে তেল পাচার রোধে সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথে বিজিবি-কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর টহল আরো জোরদার করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটতে পারবে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কর্তৃক বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার তথ্য বিবরণী, নিষ্পত্তি ও অগ্রগতির প্রতিবেদন নিয়মিত দাখিল করতে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক সভাগুলোতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী, বিজিবি’র চট্টগ্রাম রিজিয়নের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম সিকদার, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস (নোয়াখালী), একেএম মামুনুর রশীদ (রাঙামাটি), মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), অঞ্জন চন্দ্র পাল (ল²ীপুর), মো. শহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), হায়াত-উদ-দৌলা (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার নওরোজ হাসান তালুকদার, আর আর এফ’র কমান্ডিং অফিসার এম এ মাসুদ, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর আলম, এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইউসুফ আলী হাওলাদার, আনসার-ভিডিপি’র উপ-মহাপরিচালক মো. সামছুল আলম, কাস্টম কমিশনার এম. ফখরুল আলম, কুমিল্লার কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. মাহাবুবুজ্জামান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তদরের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন দেওয়ান, ডিসি-ডিবি (বন্দর) এসএম মোস্তাইন হোসেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী, চট্টগ্রাম জেলা পিপি এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চোরাচালান নিরোধ ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী, মহানগর পিপি এডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম, ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অঞ্জনা ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।