ইসলামপুরে লবণ ব্যবসায়ীকে মারধর থানায় অভিযোগ

1

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

মাঠ থেকে ট্রলারযোগে কক্সবাজারের ইসলামপুর মোকামে পরিমাপকালে লবণ আটকিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। তারা ব্যবসায়ীকে মারধর করে কারখানায় লবণ আটকিয়ে রাখে এবং টাকা পরিশোধে বাঁধা দেয়। তাদের হুমকিতে ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ ঈদগাঁও থানায় গতকাল বুধবার দুপুরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী থেকে লবণবোঝাই ট্রলারটি ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর লবণ মোকামে পৌঁছে। পরদিন ২৪ নভেম্বর সকালে এ নুর সল্ট মিলে লবণ পরিমাপকালে সন্ত্রাসী কায়দার মাইমুনুর রশিদ বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে মাইমুন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদকে মারধর করে আহত করে। তার শোর চিৎকারে ছেলে মুবিনসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় খুটাখালী ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রামের আবদুর রশিদের পুত্র মাইমুনুর রশিদ (৩০), পুর্ব নয়াপাড়ার নজির আহমদের পুত্র সিরাজুল হক (৫০) ও দক্ষিণ খাঁনঘোনার মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র বেলাল উদ্দিনকে (৪৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও আহত ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মাইমুনুর রশিদের নেতৃত্বে ৪/৫ জনের সন্ত্রাসী লবণ পরিমাপে বাঁধা দেয়। এসময় কারণ জানতে চাইলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে আমাকে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। মুলত ৭৫৯ মণ লবণ (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৫ টাকা) মোকামে পরিমাপ করতে গেলে তারা হামলা ও মারধর করে। অথচ উপরোক্ত লবণের মধ্যে ২৯৩ মণ (নুরুল আবছার) চিলখালী ও ৪৫৬ মণ লবণ (মো. ছলিম) মসজিদ ঘাটের। জমি-জমা নিয়ে মৌলভী আবু বক্করের সাথে তাদের বিরোধ রয়েছে। আমি প্রতি মৌসুমে লবণমাঠ ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করি মাত্র। বার বার তারা আমাকে হয়রানি করছে, এমনকি আমার ছেলেকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তাকে মারধর করে মারাত্মক জখম করা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত মাইমুনুর রশিদ। তিনি বলেন, মোস্তাক আহমদ বিরোধীয় লবণ মাঠের গর্ত থেকে আমার অজান্তে লবণ লুট করে মিলে বিক্রি করেছে। আমিও চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেছি।
ইসলামপুর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম দাদা বলেন, মোকামে হয়রানি বা সমস্যায় পড়ে অভিযোগ করলে তা সমিতি দেখভাল করেন। অভিযুক্তরা একই এলাকার বিধায় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানপূর্বক উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এএসআই নজরুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।