ইয়াবার ৩ চালান আটক পটিয়ায়

1

পটিয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা ইয়াবা পাচারের বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে টানা তিনটি বিশেষ অভিযানে দুই রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা। বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ‘খ’ সার্কেল সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টানা তিনটি অভিযান চালানো হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি চালানই সরাসরি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে আসছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ইয়াবা তৈরি ও পাচারের বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সংস্থাটি এই নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া মুজাফরাবাদ এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী আব্দুল মাজেদ (৩৭) শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পৃথক আরেকটি অভিযানে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মহাসড়কের পটিয়া কমলমুন্সির হাট এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে মো. শাহ আলম (৪০) নামের একই ক্যাম্পের আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ৫ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
একই দিন দুপুর ১২ টার দিকে পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পটিয়া কমলমুন্সির হাট চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান (৫১) কে ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
এ তিনটি বিশেষ অভিযানেই নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক এ কে এম আজাদ উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি টিম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবা পাচারের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে। ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে ইয়াবা তৈরি হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটের বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা এখন ক্যাম্পের আশেপাশের সব রুটে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখা রাখছি।
আটক তিন আসামির বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার পটিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে, এ ধরনের ঘটনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাড়তি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘাঁটি গেড়ে আছে। কর্মসংস্থানহীন ও সীমাবদ্ধ পরিবেশে থাকা তরুণ রোহিঙ্গাদের খুব সহজে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এ কাজে নামিয়ে আনা হয়। পাচারকারীরা মনে করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গাদের তেমনভাবে সন্দেহ করে না এ সুযোগটাই তারা কাজে লাগাচ্ছে।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এ কে এম আজাদ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন ইয়াবা বাহকদের নিয়োগের বড় কেন্দ্র। তারা প্রতিবার নতুন কৌশল নিচ্ছে। কখনো দেহে লুকানো, কখনো শিশু ও নারীকে ব্যবহার করে তারা। আমরা গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করছি। পটিয়ার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ অভিযানে বড় চালান আটক হলেও তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মূল চক্রের অতি ক্ষুদ্র অংশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পনির্ভর ইয়াবা নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, পটিয়া এখন ইয়াবা রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট, যার নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান অব্যাহত থাকবে।